জামায়াতে ইসলামীকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করে নির্মূল করতে দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শনিবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মে দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক যৌথ সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন যে বিএনপি ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ করে ক্ষমতায় এসেছে। এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করেই মির্জা ফখরুল তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান।
তিনি বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকদের কাছে বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে। সেই নির্বাচনে বিএনপি ২১৩টি আসনে জয়লাভ করে সরকার গঠন করেছে। এই গণরায়কে প্রশ্নবিদ্ধ করার যেকোনো প্রচেষ্টাকে সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মির্জা ফখরুল আরও অভিযোগ করেন, নির্বাচনের আগে থেকেই একটি বিশেষ গোষ্ঠী দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করার চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। নির্বাচনে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর সেই গোষ্ঠী নতুনভাবে মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তার মতে, দেশে বিভেদ ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির মাধ্যমে পুনরায় স্বৈরশাসন প্রতিষ্ঠার পাঁয়তারা চলছে।
জামায়াতের ঐতিহাসিক ভূমিকার সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, দেশের জনগণ সচেতনভাবেই এই দলকে প্রত্যাখ্যান করেছে। ভবিষ্যতে যাতে এই দলকে রাজনৈতিকভাবে সম্পূর্ণ পর্যুদস্ত করা যায়, সে লক্ষ্যে দলের সকল স্তরের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার নির্দেশ দেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা প্রসঙ্গেও কথা বলেন মির্জা ফখরুল। তিনি আশা প্রকাশ করেন, শিক্ষার্থীরা অপরাজনীতি পরিহার করে সুস্থ রাজনৈতিক চর্চায় মনোযোগী হবে।
