আজ ২৩ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে (বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়াম) অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে ৫৫ রানে পরাজিত করেছে বাংলাদেশ। এই দাপুটে জয়ের মাধ্যমে তিন ম্যাচের ওডিআই সিরিজটি ২-১ ব্যবধানে জিতে নিয়েছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। ম্যাচে দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে দলের জয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।
ম্যাচের শুরুতে টসে জিতে নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন। ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই কিছুটা ধাক্কা খেলেও নাজমুল হোসেন শান্ত এবং লিটন দাসের অনবদ্য ১৬০ রানের জুটিতে বড় সংগ্রহের ভিত পায় বাংলাদেশ। নাজমুল হোসেন শান্ত ১১৯ বলে ১০৫ রানের এক চমৎকার ইনিংস খেলেন, যাতে ছিল ৯টি চার ও ২টি ছক্কার মার। তাকে যোগ্য সঙ্গ দিয়ে লিটন দাস ৯১ বলে ৭৬ রান করেন। শেষদিকে তাওহীদ হৃদয়ের ২৯ বলে ৩৩ রানের ক্যামিও ইনিংসে ভর করে বাংলাদেশ নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৬৫ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর দাঁড় করায়। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে উইল ও’রুরকি ৩২ রানে ৩টি এবং বেন লিস্টার ও জেইডেন লেনক্স ২টি করে উইকেট নেন।
২৬৬ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই বাংলাদেশি বোলারদের তোপের মুখে পড়ে কিউইরা। বিশেষ করে কাটার মাস্টার মুস্তাফিজুর রহমান নিউজিল্যান্ডের টপ অর্ডারে ধস নামান। কিউই ব্যাটারদের মধ্যে নিক কেলি ৮০ বলে ৫৯ রান করে প্রতিরোধের চেষ্টা করেন। অন্যদিকে ডিন ফক্সক্রফট শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে মাত্র ৭২ বলে ৭৫ রানের একটি বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন, যেখানে তিনি ৭টি দৃষ্টিনন্দন ছক্কা হাঁকান। তবে অন্য ব্যাটারদের ব্যর্থতায় ৪৪.৫ ওভারে ২১০ রানেই গুটিয়ে যায় নিউজিল্যান্ডের ইনিংস।
বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণে মূল নায়ক ছিলেন মুস্তাফিজুর রহমান। তিনি মাত্র ৯ ওভার বল করে ২ মেডেনসহ ৪৩ রান দিয়ে তুলে নেন ৫টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। তার গতির বৈচিত্র্য নিউজিল্যান্ডের ব্যাটারদের জন্য পড়া প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এছাড়া তরুণ পেসার নাহিদ রানা ১০ ওভারে ৩৭ রান দিয়ে ২ উইকেট এবং অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ ৮.৫ ওভারে ৩৬ রান দিয়ে ২ উইকেট শিকার করেন। শরিফুল ইসলামও ১টি উইকেট নিয়ে জয়ের পথে অবদান রাখেন।
এই জয়ের ফলে ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের গৌরব অর্জন করল বাংলাদেশ। সিরিজের প্রথম ম্যাচ নিউজিল্যান্ড ২৬ রানে জিতলেও পরের দুই ম্যাচ টানা জিতে সিরিজে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় টাইগাররা। ওডিআই ফরম্যাটে এই আধিপত্য বজায় রেখে বাংলাদেশ দল এখন আগামী ২৭ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। সিরিজের শেষ ওডিআই ম্যাচের এই বিশাল জয় নিশ্চিতভাবেই আসন্ন সিরিজে ক্রিকেটারদের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।
