ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আজ ৩০ এপ্রিল, ২০২৬ তারিখে রাষ্ট্রপতির আদেশ পাঠের মাধ্যমে সমাপ্ত হয়েছে। দীর্ঘ ১৮ বছর পর একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত এই সংসদের প্রথম অধিবেশনটি বেশ কিছু কারণে তাৎপর্যপূর্ণ ছিল।
অধিবেশনের বিস্তারিত সারসংক্ষেপ নিচে দেওয়া হলো:
কেমন গেলো এই অধিবেশন?
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের মতে, এবারের অধিবেশনে সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে অভূতপূর্ব সহমর্মিতা ও সহযোগিতার পরিবেশ দেখা গেছে। বিশেষ করে ২২০ জন নতুন সংসদ সদস্যের গঠনমূলক আলোচনা ও আচরণ সংসদীয় কার্যক্রমে নতুন প্রাণ সঞ্চার করেছে। সংসদীয় গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার ছিল এই অধিবেশনের মূল সুর।
প্রথম অধিবেশনের অর্জন
২৫ কার্যদিবসের এই দীর্ঘ অধিবেশনে উল্লেখযোগ্য কিছু অর্জন ও পরিসংখ্যান নিচে তুলে ধরা হলো:
বিল ও অধ্যাদেশ: অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের সুরাহা করা হয়েছে এবং মোট ৯৪টি বিল পাস হয়েছে।
কমিটি গঠন: সংসদ পরিচালনার জন্য ৫টি স্থায়ী কমিটি এবং ২টি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপতির ভাষণ: গত ১২ মার্চ রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের দেওয়া ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়েছেন ২৮০ জন সদস্য, যা প্রায় ৪০ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলেছে।
প্রশ্নোত্তর পর্ব: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংসদ সদস্যদের ৩৫টি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীরা মোট ১,৭৭৮টি প্রশ্নের উত্তর প্রদান করেছেন।
বিশেষ প্রাপ্তি: অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘টাইম ম্যাগাজিন’-এর প্রভাবশালী ১০০ ব্যক্তির তালিকায় স্থান পাওয়ায় তাকে অভিনন্দন জানানো হয়।
দ্বিতীয় অধিবেশন কবে এবং বিষয় কী?
সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন নিয়ে প্রধান হুইপ নূরুল ইসলাম মণি প্রাথমিক কিছু তথ্য জানিয়েছেন:
দ্বিতীয় অধিবেশন শুরু: আগামী ১ জুন, ২০২৬ তারিখে পরবর্তী অধিবেশন ডাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
বাজেট ঘোষণা: এই দ্বিতীয় অধিবেশনেই আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট পেশ করা হবে, যার সম্ভাব্য তারিখ ৪ জুন, ২০২৬।
দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই সংসদ অধিবেশনটি মূলত জুলাই বিপ্লবের চেতনা ও ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিকে ধারণ করে আইনের শাসন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার দৃঢ় অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে।
