ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন মধ্যপ্রাচ্যের চার মিত্র দেশের কাছে মোট ৮.৬ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে। গত ১ মে শুক্রবার এই ঘোষণা আসে।
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, সাধারণত এ ধরনের বড় অস্ত্র চুক্তিতে কংগ্রেসের অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক হলেও এবার জাতীয় নিরাপত্তার জরুরি অবস্থার দোহাই দিয়ে সেই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও Arms Export Control Act-এর বিশেষ ধারা ব্যবহার করে ঘোষণা দেন যে পরিস্থিতি এতটাই সংকটজনক যে স্বাভাবিক কংগ্রেসীয় পর্যালোচনার সময় নেই।
তার এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সমালোচকরা বলছেন, এভাবে বারবার জরুরি ক্ষমতা ব্যবহার করলে কংগ্রেসের ভূমিকা কার্যত নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে।
চারটি দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাচ্ছে কাতার। দেশটি প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে Patriot আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মজুদ পুনর্গঠন করবে এবং লেজার-নির্দেশিত APKWS রকেট সিস্টেম কিনবে।
কুয়েত ২.৫ বিলিয়ন ডলারে একটি সমন্বিত যুদ্ধ-কমান্ড সিস্টেম পাবে, যা দেশটির রাডার ও বায়ু প্রতিরক্ষাকে আরও শক্তিশালী করবে।
ইসরায়েল প্রায় ১ বিলিয়ন ডলারের APKWS সিস্টেম পাবে, যা অনির্দেশিত রকেটকে নির্ভুল লক্ষ্যভেদী অস্ত্রে পরিণত করে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত পাবে ১৪৮ মিলিয়ন ডলারের একই ধরনের সিস্টেম।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে শুরু হওয়া মার্কিন-ইসরায়েল বনাম ইরান সংঘাত এখন নবম সপ্তাহে প্রবেশ করেছে। গত মাসে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও পরিস্থিতি এখনো অস্থিতিশীল। ইরানের একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় মিত্র দেশগুলোর অস্ত্রের মজুদ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে, যা এই জরুরি অস্ত্র সরবরাহের মূল কারণ বলে প্রশাসন দাবি করছে।
একই দিনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কংগ্রেসে একটি চিঠি পাঠিয়ে জানান যে ইরানের সাথে সক্রিয় শত্রুতা শেষ হয়েছে — এটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ War Powers Act অনুযায়ী ৬০ দিনের মধ্যে কংগ্রেসের অনুমোদন না নিলে সামরিক অভিযান বন্ধ করতে হয়।
এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। এর আগে মার্চ মাসেও একইভাবে UAE, কুয়েত ও জর্ডানের কাছে ১৬.৫ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্প প্রশাসন মধ্যপ্রাচ্যে দ্রুত সামরিক অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে চাইছে এবং এই প্রক্রিয়ায় কংগ্রেসীয় তদারকির ঐতিহ্যগত ভূমিকাকে পাশ কাটানো হচ্ছে ক্রমাগত।
তথ্যসূত্র: Al Jazeera, Times of Israel, The Hill, Washington Examiner, Epoch Times
