জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের ঘটনাকে ঘিরে নিজের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক স্মৃতিচারণমূলক পোস্টে তিনি সেদিনের ঘটনার বিভিন্ন দিক বর্ণনা করেন।
তিনি জানান, হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশে অংশ নিতে বিকেলে চিটাগাং রোড থেকে মতিঝিলের উদ্দেশ্যে রওনা দেন তিনি। পথে পুলিশের তল্লাশি এড়িয়ে কখনো হেঁটে, কখনো রিকশায় করে বিভিন্ন পথ পাড়ি দিয়ে ইত্তেফাক মোড়ে পৌঁছান। সেখানে বিপুল জনসমাগম দেখে তিনি কিছুটা স্বস্তি পান।
রাতে নটরডেম কলেজসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করে নামাজ আদায় ও খাবারের ব্যবস্থা করেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। তবে রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হামলার আশঙ্কার কথা শোনা যাচ্ছিল বলে জানান।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, রাত আনুমানিক ২টার দিকে পুলিশ ও র্যাব ফকিরাপুলের দিক থেকে অভিযান শুরু করে। রাবার বুলেট, শটগানের গুলি ও সাউন্ড গ্রেনেডের শব্দে পুরো এলাকা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, অনেকেই ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে এবং ভয়-আতঙ্কে নিস্তব্ধতা নেমে আসে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিভিন্ন স্থানে সরে গিয়ে কয়েকজনকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করেন এবং স্লোগান দিয়ে লোকজনকে উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা চালান। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিত মানুষের মানসিক ও শারীরিক শক্তি ক্ষয় হতে থাকে বলে জানান তিনি।
জুনায়েদ দাবি করেন, ওই ঘটনায় বহু নিরীহ আলেম ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থী হতাহত হন। তিনি এ ঘটনার বিচার দাবি করে বলেন, “সমস্ত হত্যার বিচার নিশ্চিতের মাধ্যমেই আমরা রাজনীতির আলাপ দেখতে চাই।”
