সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
Logo
×

মাত্র ২৪ ঘণ্টায় ইউটার্ন ট্রাম্পের, থামল হরমুজের ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’

আন্তর্জাতিক প্রথম সমাচার ০৬ মে ২০২৬, ১২:১৫ অপরাহ্ন

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মাঝে নাটকীয় পদক্ষেপ নিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুনরুদ্ধারে মাত্র একদিন আগে শুরু হওয়া সামরিক অভিযান ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ সাময়িকভাবে স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

ইরানের সঙ্গে “সম্পূর্ণ ও চূড়ান্ত চুক্তি”র দিকে “বড় অগ্রগতি” হচ্ছে বলে দাবি করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করলে ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। বিশ্বের মোট জ্বালানি পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে যায়।

প্রণালি বন্ধ থাকায় ৮৭টি দেশের প্রায় ২৩ হাজার নাবিক পারস্য উপসাগরে আটকা পড়েন। এপ্রিলে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র রোববার ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ চালুর ঘোষণা দেয় এবং সোমবার থেকে অভিযান শুরু হয়।

কিন্তু অভিযান শুরুর পরই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রণালিতে মার্কিন ও ইরানি বাহিনীর মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। একই সঙ্গে ইরান সংযুক্ত আরব আমিরাতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালায়, যা যুদ্ধবিরতির পর এই প্রথম।

দক্ষিণ কোরিয়া পরিচালিত একটি বাণিজ্যিক জাহাজেও বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে, যার জন্য ট্রাম্প ইরানকে সরাসরি দায়ী করেন।

এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প মঙ্গলবার সন্ধ্যায় Truth Social-এ পোস্ট দিয়ে জানান, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের অনুরোধ এবং ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির কথা বিবেচনা করে অভিযানটি সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হচ্ছে। তবে ইরানি বন্দরগুলোতে মার্কিন অবরোধ পুরোপুরি বহাল থাকবে বলেও স্পষ্ট করেন তিনি।

বিভিন্ন পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্তে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া এসেছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, হরমুজ প্রণালি কোনো একটি দেশের সম্পত্তি নয় এবং ইরানের অবরোধ সম্পূর্ণ বেআইনি। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানান, যুদ্ধবিরতি এখনো বহাল এবং প্রণালিতে সংঘর্ষ তার লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে না।

অন্যদিকে ইরানের পক্ষ থেকে এই স্থগিতাদেশকে “আমেরিকার পিছু হটা” হিসেবে উল্লেখ করা হয়। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ যুদ্ধবিরতি অক্ষুণ্ণ রাখার আহ্বান জানান।

অর্থনৈতিক দিক থেকেও এই সংকটের প্রভাব স্পষ্ট। ট্রাম্পের স্থগিতের ঘোষণায় মার্কিন শেয়ারবাজারে ইতিবাচক সাড়া পড়লেও তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের উপরে থাকে এবং যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের গড় মূল্য গ্যালনপ্রতি ৪.৪৮ ডলারে পৌঁছায়।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই বিরতি ইরানের মধ্যপন্থী অংশকে আলোচনার টেবিলে ফেরাতে সহায়তা করতে পারে। তবে চুক্তি আদৌ সম্ভব হবে কিনা, নাকি পরিস্থিতি আবার অবনতির দিকে যাবে — তা নির্ভর করছে আগামী কয়েক দিনের কূটনৈতিক তৎপরতার উপর।

হরমুজ প্রণালির এই সংকট এখন শুধু মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ নয়, বিশ্ব অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক শান্তির এক কঠিন পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে।

খবর আল-জাজিরা

শেয়ার করুন:
লিঙ্ক কপি হয়েছে
Loading
আরও নিউজ লোড হচ্ছে...