রাত গভীর হলেও অনেকের হাত থেকে নামছে না স্মার্টফোন। সারাদিনের কাজ শেষে ক্লান্ত শরীর নিয়েও ঘণ্টার পর ঘণ্টা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ক্রল করছেন অনেকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অভ্যাস ধীরে ধীরে মানুষের ঘুম, মনোযোগ, মানসিক স্বাস্থ্য এবং পারিবারিক সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
চিকিৎসক ও প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, অতিরিক্ত স্মার্টফোন ব্যবহার মস্তিষ্কে এক ধরনের অভ্যাসগত নির্ভরতা তৈরি করতে পারে। প্রতিটি নোটিফিকেশন বা নতুন কনটেন্ট মস্তিষ্কে আনন্দ অনুভূতির প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে, ফলে মানুষ বারবার ফোন চেক করতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। এর প্রভাবে মনোযোগ কমে যাওয়া, স্মৃতিশক্তি দুর্বল হওয়া এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা হ্রাস পাওয়ার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘ সময় স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলে চোখে চাপ পড়ে। এতে চোখ শুকিয়ে যাওয়া, মাথাব্যথা, ঝাপসা দেখা এবং চোখে অস্বস্তির মতো সমস্যা বাড়ছে। এছাড়া রাতে ঘুমানোর আগে অতিরিক্ত ফোন ব্যবহারে ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দ ব্যাহত হয়। ফলে গভীর ঘুম কম হয় এবং সকালে ক্লান্তি অনুভূত হয়।
মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যের সাজানো জীবন বারবার দেখতে দেখতে অনেকেই নিজের জীবনকে ছোট বা অসম্পূর্ণ মনে করতে শুরু করেন। এতে উদ্বেগ, হতাশা এবং একাকীত্বের অনুভূতি বাড়তে পারে।
সামাজিক বিশ্লেষকরাও বলছেন, অতিরিক্ত ফোন ব্যবহারের কারণে পরিবারে যোগাযোগ কমে যাচ্ছে। পরিবারের সদস্যরা একসঙ্গে থাকলেও বাস্তব কথোপকথনের বদলে সময় কাটছে স্ক্রিনে। এতে ধীরে ধীরে সম্পর্কের দূরত্ব বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞরা সুস্থ অভ্যাস গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়ে বলেছেন, রাতে নির্দিষ্ট সময়ের পর ফোন ব্যবহার সীমিত রাখা, খাবারের টেবিলে ফোন ব্যবহার কমানো, সকালে ঘুম থেকে উঠেই ফোন না দেখা এবং শোবার সময় ফোন দূরে রাখা মানসিক ও শারীরিক সুস্থতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
