সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
Logo
×
ভারতের বিধানসভা নির্বাচন

বিজয়ের আটকে যাওয়া শপথের জট খুলতে কোন শর্তে জোট!

আন্তর্জাতিক প্রথম সমাচার ১০ মে ২০২৬, ০৩:১০ অপরাহ্ন

তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে দীর্ঘ ছয় দশকের প্রথা ভেঙে এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হলো ভারতের দক্ষিণী এই রাজ্যটি।

আজ ১০ মে, চেন্নাইয়ের জওহরলাল নেহরু ইনডোর স্টেডিয়ামে এক জমকালো ও নাটকীয় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করলেন জনপ্রিয় মহাতারকা ও ‘তামিলাগা ভেটরি কাজাগাম’ (TVK)-এর প্রধান বিজয় থালাপথি।

নাটকীয় পাঁচ দিন ও ক্ষমতার পালাবদল

গত ৪ মে নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই চেন্নাইয়ের রাজপথ থেকে রাজভবন— সর্বত্রই ছিল টানটান উত্তেজনা। বিজয়ের দল ১০৮টি আসন পেয়ে একক বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে এলেও সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১১৮টির ম্যাজিক ফিগার থেকে কিছুটা দূরে ছিল। ফলে গত পাঁচ দিন ধরে চলেছে বিরামহীন রাজনৈতিক দরকষাকষি।

কংগ্রেস ও বাম দলগুলোর সমর্থনে অবশেষে ১২১টি আসনের সংস্থান করে বিজয় যখন সরকার গঠনের দাবি জানান, তখন গভর্নরের অনুমোদনের জন্য শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। গতকাল রাতে নাটকীয়ভাবে গভর্নরের সফরের সূচি বাতিল এবং বিজয়কে আমন্ত্রণ জানানোর মধ্য দিয়েই কাটল সব অনিশ্চয়তা।

টিভিকে-কংগ্রেস জোট সরকার গঠনের ৫টি প্রধান শর্ত

​১. সাম্প্রদায়িক শক্তি বিজেপির সাথে সম্পর্কচ্ছেদ

​২. মন্ত্রিসভায় অংশীদারিত্ব ও ক্ষমতার বণ্টন (এটি হতে যাচ্ছে একটি পূর্ণাঙ্গ ‘কোয়ালিশন’ বা জোট সরকার)

​৩. দীর্ঘমেয়াদী নির্বাচনী ঐকমত্য (শর্ত অনুযায়ী, আগামী লোকসভা, রাজ্যসভা এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতেও টিভিকে এবং কংগ্রেস একত্রে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে)

​৪. ডিএমকে-র সঙ্গ ত্যাগ ও কৌশলগত অবস্থান

​৫. ধর্মনিরপেক্ষ ও জনকল্যাণমুখী নীতির অনুসরণ

শপথ অনুষ্ঠানে তারকার মেলা

আজকের শপথ অনুষ্ঠানটি ছিল যেন কোনো বড় বাজেটের সিনেমার মহরত। স্টেডিয়ামে লক্ষাধিক ভক্ত ও কর্মী-সমর্থকদের গগনবিদারী স্লোগানের মধ্যে তামিল ভাষায় শপথ পাঠ করেন বিজয়।

অনুষ্ঠানে জাতীয় রাজনীতির হেভিওয়েট নেতা রাহুল গান্ধী-সহ দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী তৃষা কৃষ্ণান এবং বিজয়ের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। বিজয়ের সাথে আরও ৯ জন নতুন মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন।

ডিএমকে-এআইএডিএমকে আধিপত্যের অবসান

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিজয়ের এই জয় কেবল একটি নির্বাচনী বিজয় নয়, বরং এটি তামিলনাড়ুর প্রচলিত রাজনৈতিক কাঠামোর এক বড় পরিবর্তন।

গত ৬০ বছর ধরে ডিএমকে (DMK) এবং এআইএডিএমকে (AIADMK)—এই দুই দলের বাইরে অন্য কোনো শক্তি সেখানে মাথা তুলতে পারেনি। বিজয় থালাপথি সেই বৃত্ত ভেঙে প্রথম ‘নন-দ্রাভিড়’ দল হিসেবে ক্ষমতায় আসীন হলেন।

প্রথম ভাষণে নতুন যুগের ডাক

শপথ নেওয়ার পর এক সংক্ষিপ্ত ভাষণে বিজয় বলেন, “আজ থেকে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে এক নতুন যুগের শুরু হলো। আমাদের লক্ষ্য হবে প্রকৃত ধর্মনিরপেক্ষতা এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা। আমরা কেবল ক্ষমতায় বসার জন্য আসিনি, আমরা এসেছি পরিবর্তন আনতে।”

বিজয়ের এই শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে তামিলনাড়ুর প্রশাসনিক দায়িত্ব এখন একজন সুপারস্টারের কাঁধে। এখন দেখার বিষয়, পর্দার হিরো বাস্তব জীবনে রাজ্যের প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জগুলো কীভাবে মোকাবিলা করেন।

শেয়ার করুন:
লিঙ্ক কপি হয়েছে
Loading
আরও নিউজ লোড হচ্ছে...