সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
Logo
×

সরকারি ধান ক্রয়ব্যবস্থা সিন্ডিকেটনির্ভরতার জন্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কৃষক: আতিক মুজাহিদ

প্রথম সমাচার ডেস্ক ১৪ মে ২০২৬, ০৫:০০ পূর্বাহ্ন

সরকারি ধান ক্রয়ের পুরো ব্যবস্থাই সিন্ডিকেটনির্ভর বলে মন্তব্য করেছেন এনসিপি (ন্যাশনাল সিটিজেন্স পার্টি)-এর যুগ্ম আহ্বায়ক ও কুড়িগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. আতিক মুজাহিদ। তিনি বলেছেন, বিদ্যমান ব্যবস্থায় মধ্যস্বত্বভোগীরা লাভবান হলেও প্রকৃত কৃষকেরা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং টিকে থাকার লড়াইয়ে পিছিয়ে পড়ছেন।

বুধবার রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত ‘ধান কেনার মৌসুমে সরকারি শর্ত ও অসময়ের অতিবৃষ্টিতে কৃষকের হাহাকার: সংকট ও উত্তরণের পথ’ শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। এনসিপির কৃষি সেল এ সেমিনারের আয়োজন করে।

সেমিনারে আতিক মুজাহিদ বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা এখন শুধু অর্থনৈতিক নয়, বরং রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে পরিণত হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, সরকারি ধান সংগ্রহ নীতিতে এমন কিছু জটিলতা রয়েছে, যার সুযোগ নিচ্ছে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। ফলে কৃষকের উৎপাদিত ধানের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, কৃষি খাত নিয়ে আলোচনায় কেবল ধানকে কেন্দ্র করেই পরিকল্পনা করা হচ্ছে, অথচ আলুসহ অন্যান্য কৃষিপণ্যের বাজার পরিস্থিতিও ভয়াবহ। উত্তরাঞ্চলের কৃষকেরা ন্যায্য মূল্য না পেয়ে রাস্তায় আলু ফেলে প্রতিবাদ করছেন। অনেক কৃষক হতাশ হয়ে চরম সিদ্ধান্তও নিচ্ছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেন, কৃষকের ধান পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে, অথচ সরকার বাস্তব সহায়তার বদলে ‘টিকটকার কৃষক’ তৈরি নিয়ে ব্যস্ত। তিনি অভিযোগ করেন, কৃষকের জন্য জরুরি হারভেস্টার, ধান শুকানোর প্রযুক্তি ও মাঠপর্যায়ের সহায়তা নিশ্চিত করতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে।

সারোয়ার তুষার বলেন, কৃষি কার্ড কার্যক্রমকে কার্যকর না করে সেটিকে ‘তামাশা’তে পরিণত করা হয়েছে। তিনি কৃষি বীমা চালুর দাবি জানিয়ে বলেন, সরকারকে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান কিনতে হবে এবং ফসলের ন্যূনতম মূল্য আগেই নির্ধারণ করে ঘোষণা দিতে হবে। এতে কৃষকেরা বাজারে দর-কষাকষিতে সুবিধা পাবেন।

তিনি আরও বলেন, সরকার বর্তমানে ধানের তুলনায় চাল বেশি সংগ্রহ করছে, যা কৃষকদের স্বার্থবিরোধী নীতি। এ অবস্থান থেকে সরে এসে কৃষকবান্ধব নীতি গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

জাতীয় শ্রমিক শক্তির আহ্বায়ক মাজহারুল ইসলাম ফকির বলেন, হাওরাঞ্চলের কৃষকেরা নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে ফসল কাটতে বাধ্য হচ্ছেন। তিনি দাবি করেন, বীজ বিতরণ ও কৃষি উপকরণ সরবরাহে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের গাফিলতি ও বিলম্বের কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তিনি।

সেমিনারে ন্যাশনাল হেলথ এলায়েন্সের আহ্বায়ক ডা. শাদরুল আলম বলেন, বাজেটে কৃষকদের সহজ শর্তে ঋণপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি কৃষিঋণ বিতরণ ও ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিতের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

সেমিনারে বক্তারা বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে কৃষকের ক্ষতি কিছুটা অনিবার্য হলেও সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ নিলে ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমানো সম্ভব ছিল। কৃষি খাতের সংকট মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও কৃষককেন্দ্রিক নীতি গ্রহণের দাবি জানান তাঁরা।

শেয়ার করুন:
লিঙ্ক কপি হয়েছে
Loading
আরও নিউজ লোড হচ্ছে...