ভারতের মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট এক যুগান্তকারী রায়ে ধার জেলার শতাব্দী-প্রাচীন কামাল মওলা মসজিদকে হিন্দু দেবী বাগদেবী (সরস্বতী)-র মন্দির বলে ঘোষণা করেছে।
বিচারপতি বিজয় কুমার শুক্লা ও আলোক আওস্থির ডিভিশন বেঞ্চ গত ১৫ মে ২০২৬ তারিখে ২৪২ পৃষ্ঠার এই রায় ঘোষণা করেন। রায়ে ২০০৩ সালের সেই ব্যবস্থা বাতিল করা হয়, যার অধীনে হিন্দুরা প্রতি মঙ্গলবার এবং মুসলিমরা প্রতি শুক্রবার ভোজশালা কমপ্লেক্সে পৃথকভাবে উপাসনা করতে পারতেন। আদালত মুসলিমদের বিকল্প জমির জন্য রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন করার পরামর্শ দিয়েছে।
এই রায় কোটি কোটি মুসলিমের হৃদয়ে গভীর আঘাত হেনেছে। ৭৮ বছর বয়সী মোহাম্মদ রফিক পঞ্চাশ বছর ধরে এই মসজিদে আযান দিয়ে আসছেন।
তার আগে তার দাদা হাফেজ নাজিরউদ্দিন ১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীন হওয়ারও আগ থেকে এখানে নামাজ পরিচালনা করতেন। রায়ের পর ভারাক্রান্ত কণ্ঠে রফিক বলেন, “গত শুক্রবার পর্যন্ত মসজিদটি আমাদের ছিল, আজ আর নেই। স্বপ্নেও ভাবিনি এমন কিছু হবে।”
রায়ের পরদিন রোববার স্থানটি গেরুয়া পতাকায় ঢেকে যায় এবং হিন্দুত্ববাদী কর্মীরা দেবীর মূর্তি স্থাপন করেন। ভারী পুলিশ মোতায়েনের মধ্যে বহু ভক্ত সেখানে জড়ো হন এবং ধর্মীয় সঙ্গীতের তালে নাচগান করেন।
এই রায়ের তীব্র সমালোচনা করেছেন বিশেষজ্ঞ ও রাজনীতিকরা। ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসবিদ অড্রি ট্রুসকে বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত জরিপ আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূরণ করে না এবং ভারতে মসজিদকে লক্ষ্য করার এই প্রবণতা হিন্দু জাতীয়তাবাদের গভীরে প্রোথিত ইসলামবিদ্বেষের অংশ।
হায়দরাবাদের সংসদ সদস্য আসাদউদ্দিন ওয়াইসি বলেন, ২০১৯ সালে বাবরি মসজিদের সুপ্রিম কোর্টের রায় এই সব দাবি ও মামলার দরজা খুলে দিয়েছে এবং এটা কোথায় গিয়ে থামবে তা কেউ জানে না।
২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদির ক্ষমতায় আসার পর থেকে ভারতজুড়ে একের পর এক মসজিদে হিন্দু মন্দিরের দাবি উঠছে — বারাণসীর জ্ঞানবাপী মসজিদ, মথুরার শাহী ঈদগাহ এমনকি তাজমহলও এই বিতর্কের বাইরে নেই। মুসলিম পক্ষ সুপ্রিম কোর্টে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা, বার অ্যান্ড বেঞ্চ
