ক্রীড়া প্রতিবেদক, ঢাকা: রাজনৈতিক বৈরিতা আর কূটনৈতিক যুদ্ধাবস্থার আবহ তৈরি হয়েছে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের মাঠেও। নানা নাটকীয়তা ও অনিশ্চয়তা শেষে অবশেষে জানা গেল, আসন্ন বিশ্বকাপে নিজেদের ম্যাচের অন্তত এক দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবে ইরান ফুটবল দল। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ (ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি) এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
চলতি বিশ্বকাপে ‘জি’ গ্রুপে থাকা ইরানের সবগুলো ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে। তবে দুই দেশের মধ্যকার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনার কারণে মার্কিন ভূখণ্ডে দলটির দীর্ঘমেয়াদি অবস্থান নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। ফলে ইরান দল তাদের মূল বেজক্যাম্প বানিয়েছে মেক্সিকোর তিহুয়ানা শহরে। সেখান থেকেই তারা ম্যাচের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যাতায়াত করবে।
এর আগে মেক্সিকোতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূতের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোতে খবর রটেছিল যে, ইরান দলকে কেবল ম্যাচের দিনই যুক্তরাষ্ট্রে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হবে এবং খেলা শেষ হওয়ামাত্রই তাদের মেক্সিকোতে ফিরে যেতে হবে। তবে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটির একজন মুখপাত্র এই দাবিকে অসত্য বলে নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি জানান, “প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ উদারতায় ইরান দল ম্যাচের এক দিন আগেই ভেন্যুতে পৌঁছানোর সুযোগ পাবে এবং তাদের রাতে থাকার ওপর কোনো আইনি নিষেধাজ্ঞা নেই।”
এই বিষয়ে ইরান ফুটবল ফেডারেশনের মুখপাত্র আমির মেহদি আলাভি জানিয়েছেন, তারা ফিফার নিয়মকানুন মেনেই চার্টার্ড ফ্লাইটে করে যুক্তরাষ্ট্রে যাবেন। প্রথম ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তারা এক দিন আগে পৌঁছালেও, পরবর্তী ম্যাচগুলোর ক্ষেত্রে দুই দিন আগেই ভেন্যু শহরে চলে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন।
এদিকে দলটির খেলোয়াড়রা ভিসা পেলেও এখনো কাটেনি সম্পূর্ণ ভিসা জটিলতা। ইরানের ফুটবল ফেডারেশনের তথ্যমতে, মেক্সিকোতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস থেকে দলের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা এখনো ভিসা পাননি। এই তালিকায় রয়েছেন দলের ম্যানেজার, দুজন পারফরম্যান্স অ্যানালিস্ট, মিডিয়া ডিরেক্টর এবং ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন প্রতিনিধি।
উল্লেখ্য, বিশ্বকাপের প্রাথমিক সূচি অনুযায়ী ইরানের বেজক্যাম্প করার কথা ছিল যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনায়। কিন্তু গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পর সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। মার্চ মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও মন্তব্য করেছিলেন, বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণে আপত্তি না থাকলেও ‘নিজেদের জীবন ও নিরাপত্তার স্বার্থে’ ইরানি দলের যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করাটা সমীচীন হবে না।
সব বাধা কাটিয়ে আগামী ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে ইরান। এরপর ২১ জুন বেলজিয়াম এবং ২৬ জুন সিয়াটলে মিসরের মুখোমুখি হবে মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটি। মাঠের বাইরের এই ভূরাজনৈতিক উত্তেজনাকে পেছনে ফেলে মাঠের ফুটবলে ইরান কেমন পারফর্ম করে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
