বিশ্বকাপ মিশনের শুরুটা প্রত্যাশামতো হলো না ব্রাজিলের। গ্রুপ ‘সি’-এর প্রথম ম্যাচে শক্তিশালী মরক্কোর বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। পিছিয়ে পড়েও ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের গোলে সমতায় ফিরলেও শেষ পর্যন্ত জয় তুলে নিতে পারেনি কার্লো আনচেলত্তির দল।
নিউ জার্সির ইস্ট রাদারফোর্ডের নিউইয়র্ক/নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে মরক্কো। দ্রুত পাল্টা আক্রমণ, মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ এবং ব্রাহিম দিয়াজের সৃজনশীলতায় ব্রাজিলের রক্ষণকে একাধিকবার চাপে ফেলে আফ্রিকার প্রতিনিধিরা।
২১তম মিনিটে সেই চাপেরই প্রতিফলন ঘটে। ব্রাহিম দিয়াজের নিখুঁত থ্রু পাস ধরে ডিফেন্ডারদের পেছনে ফেলে বক্সে ঢুকে ঠান্ডা মাথায় গোল করেন ইসমাইল সাইবারি। তার গোলে ম্যাচে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় মরক্কো।
গোল হজমের পর ব্রাজিল বলের দখল বাড়ালেও আক্রমণে কাঙ্ক্ষিত ধার খুঁজে পাচ্ছিল না। নেইমারহীন আক্রমণভাগে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রাফিনিয়া ও ইগর থিয়াগোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাব স্পষ্ট ছিল। মাঝমাঠ থেকেও সেভাবে কার্যকর সুযোগ তৈরি হচ্ছিল না।
তবে ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে ম্যাচে সমতা ফেরান ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। ৩২তম মিনিটে বাঁ দিক থেকে ভেতরে ঢুকে ডান পায়ের দুর্দান্ত শটে বল জালে পাঠিয়ে ব্রাজিলকে সমতায় ফেরান রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকা ফরোয়ার্ড।
বিরতির পর দলকে এগিয়ে নিতে কয়েকটি পরিবর্তন আনেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি। দ্বিতীয়ার্ধে ব্রাজিল বলের দখল ও আক্রমণে আধিপত্য দেখালেও মরক্কোর সুসংগঠিত রক্ষণভাগ ভাঙতে ব্যর্থ হয়। ভিনিসিয়ুস ও রাফিনিয়া কয়েকটি আক্রমণ তৈরি করলেও পরিষ্কার গোলের সুযোগ খুব বেশি সৃষ্টি করতে পারেনি সেলেসাওরা।
শেষ দিকে মরক্কো রক্ষণে মনোযোগী হয়ে এক পয়েন্ট ধরে রাখার কৌশল নেয়। শৃঙ্খলাবদ্ধ ডিফেন্স ও কার্যকর প্রেসিংয়ের মাধ্যমে ব্রাজিলকে আটকে রেখে গুরুত্বপূর্ণ এক পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ে তারা।
এই ড্র ব্রাজিলের জন্য কিছুটা হতাশার হলেও মরক্কো আবারও প্রমাণ করেছে, বড় দলের বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সামর্থ্য তাদের রয়েছে। অন্যদিকে আনচেলত্তির দলের সামনে রয়ে গেছে বেশ কিছু প্রশ্ন—বিশেষ করে আক্রমণের সমন্বয়, মাঝমাঠের সৃজনশীলতা এবং দ্রুত পাল্টা আক্রমণ সামাল দেওয়ার সক্ষমতা নিয়ে।
ফলে বিশ্বকাপ অভিযান ব্রাজিলের শুরু হলো জয় দিয়ে নয়, বরং সতর্কবার্তার মধ্য দিয়ে।
