ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতা চুক্তি নিয়ে নতুন করে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী সবকিছু এগোলে রোববারই চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে এবং এর পরপরই হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক নৌযানের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।
ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, চুক্তি স্বাক্ষরের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে গিয়ে সামরিক অভিযানের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক স্থাপনার অবশিষ্ট তেজস্ক্রিয় উপাদান সংগ্রহ ও নিরাপদে ধ্বংসের কাজ সম্পন্ন করবে। একই সঙ্গে তিনি মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় ইরানের সঙ্গে ভবিষ্যতে কাজ করার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন।
তবে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, আলোচনার মাধ্যমে সমাধানই তাদের প্রথম পছন্দ। কিন্তু যদি সমঝোতা ব্যর্থ হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে বিকল্প ব্যবস্থা রয়েছে, যা প্রয়োগের প্রয়োজন হবে না বলেই তিনি আশা করছেন।
অন্যদিকে ট্রাম্পের এই বক্তব্যের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি তেহরান। তবে ইরানের কর্মকর্তাদের সাম্প্রতিক বক্তব্যের সঙ্গে ট্রাম্পের ঘোষণার কিছু অসঙ্গতি দেখা গেছে। বিশেষ করে চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাব্য সময়সূচি নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থানে পার্থক্য রয়েছে।
আল জাজিরার তেহরান প্রতিনিধি জানিয়েছেন, ইরান আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে বলে স্বীকার করেছে এবং খসড়া চুক্তির চূড়ান্ত পাঠ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ ও সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট মহলে পর্যালোচনার মধ্যে রয়েছে।
এর আগে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছিলেন, রোববার চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা নেই। তবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই সমঝোতা সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
এদিকে উপসাগরীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান গালফ ইন্টারন্যাশনাল ফোরামের নির্বাহী পরিচালক ড. দানিয়া থাফের মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান আলোচনায় আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় আশাবাদ অনেক বেশি। যদিও এখনও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতপার্থক্য রয়ে গেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, পাকিস্তানসহ আঞ্চলিক বিভিন্ন পক্ষের ইতিবাচক ভূমিকা আলোচনা এগিয়ে নিতে সহায়ক হয়েছে। তবে লেবাননের সংঘাত ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি কূটনৈতিক প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলতে পারে।
এদিকে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারও ট্রাম্পের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে সম্ভাব্য ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, যেকোনো চুক্তি যেন টেকসই ও দীর্ঘস্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
স্টারমারের কার্যালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক অর্থনীতির স্বার্থে হরমুজ প্রণালিতে অবাধ নৌ-চলাচল পুনঃপ্রতিষ্ঠা জরুরি এবং এ লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত যুক্তরাজ্য।
তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফোয়াদ আজাদি জানিয়েছেন, ইরানের সাধারণ মানুষের মধ্যেও চুক্তি নিয়ে আশাবাদ তৈরি হয়েছে। তবে তার ধারণা, রাজনৈতিক কারণে তেহরান রোববার চুক্তি স্বাক্ষর এড়িয়ে যেতে পারে।
অন্যদিকে মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ ফেলো রস হ্যারিসন সতর্ক করে বলেছেন, ট্রাম্পের আশাবাদী বক্তব্য সত্ত্বেও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে। তার মতে, অতীতেও চুক্তির খুব কাছাকাছি গিয়ে আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার নজির রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতার সম্ভাবনা আগের তুলনায় বাড়লেও রাজনৈতিক বাস্তবতা ও আঞ্চলিক পরিস্থিতির কারণে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অনিশ্চয়তা কাটবে না।
সূত্র: আল জাজিরা
