ভাই ওসমান গণির হত্যা মামলার বাদী হওয়া নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলমান সমালোচনা ও নানা মন্তব্যের জবাব দিয়েছেন তার বড় বোন। তিনি দাবি করেছেন, বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন নীরব থাকলেও সাম্প্রতিক অপপ্রচারের কারণে মুখ খুলতে বাধ্য হয়েছেন।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ওসমান গণি গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পাওয়ার পরপরই তিনি ঢাকায় এসে এভারকেয়ার হাসপাতালে অবস্থান নেন এবং পুরো সময় ভাইয়ের সঙ্গেই ছিলেন। তার দাবি, তিনি হাসপাতালে উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও কীভাবে অন্য একজনের মাধ্যমে মামলার বাদী নির্ধারণ করা হলো, সেটি এখনও পরিষ্কার নয়।
তিনি জানান, এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে তাকে বলা হয়েছিল যে, ঘটনার সময় ওসমান গণির ঘনিষ্ঠজনেরা চিকিৎসা নিয়েই ব্যস্ত ছিলেন এবং মামলাসংক্রান্ত বিষয়ে তখন মনোযোগ দেওয়ার মতো পরিস্থিতিতে ছিলেন না।
ওসমান গণির ভাই ওমর ফারুকের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ঘটনার সময় ওমরও মানসিকভাবে ভীষণ বিপর্যস্ত ছিলেন। একই রিকশায় থাকা অবস্থায় গুলির ঘটনায় ভাইকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখেছেন তিনি। এমন পরিস্থিতিতে মামলার প্রশাসনিক বিষয়গুলো নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো অবস্থায় কেউ ছিলেন না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বিবৃতিতে তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, পরিবারের সঙ্গে আলোচনা না করে কীভাবে জাবের নামে একজন ব্যক্তি মামলার বাদী হলেন। তার ভাষ্য, ওসমান গণির জীবনে পরিবারের সদস্যদের ভূমিকা ও সম্পৃক্ততা সম্পর্কে ঘনিষ্ঠজনেরা ভালোভাবেই অবগত ছিলেন।
ওমর ফারুককে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো বিভিন্ন মন্তব্যেরও প্রতিবাদ জানান তিনি। তার দাবি, ওমরের ব্যক্তিগত জীবনযাপন বা ব্যবহৃত সামগ্রী নিয়ে যেসব নেতিবাচক মন্তব্য করা হচ্ছে, সেগুলোর বেশিরভাগই ভিত্তিহীন।
চিকিৎসা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ওসমান গণিকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য নেওয়ার উদ্যোগ প্রথমে ব্যক্তিগতভাবে ওমর ফারুকই নিয়েছিলেন। প্রথমে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসার চেষ্টা ব্যর্থ হলে থাইল্যান্ডে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। পরে সরকার বিষয়টি জানার পর চিকিৎসার দায়িত্ব গ্রহণ করে এবং দ্বিতীয় দফায় সিঙ্গাপুরে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।
বিবৃতির শেষাংশে তিনি বলেন, ভাইকে হারানোর বেদনা নিয়ে তিনি এতদিন প্রকাশ্যে কিছু বলতে চাননি। তবে একজন শহীদ বা বিপ্লবীর পরিবারকে নিয়ে মিথ্যাচার ও অপপ্রচার গ্রহণযোগ্য নয়। কোনো বিষয়ে সমালোচনা করার আগে সত্যতা যাচাই করার আহ্বান জানান তিনি।
