মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রবিবার বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে মাত্র এক উইকেটের ব্যবধানে জয় পেয়েছে সফরকারী অস্ট্রেলিয়া।
তবে ইতিমধ্যেই সিরিজ ২-০ ব্যবধানে নিজেদের করে নেওয়া বাংলাদেশের কাছে এটি ছিল সান্ত্বনার পরাজয়। শেষ ওভারে স্পিনার অ্যাডাম জাম্পার অনায়াস বাউন্ডারিতে তিন বল বাকি রেখেই ম্যাচটি পকেটে পুরে ফেলে অস্ট্রেলিয়া।
টস জিতে আগে ব্যাটিং করা বাংলাদেশ নির্ধারিত পঞ্চাশ ওভারে পাঁচ উইকেট হারিয়ে ২৭৪ রানের লড়াকু পুঁজি গড়ে তোলে। লিটন দাস, মোসাদ্দেক হোসেন ও তৌহিদ হৃদয়ের দৃঢ় ব্যাটিং ইনিংসটিকে শক্তিশালী ভিত্তির উপর দাঁড় করায়। হৃদয় একক সর্বোচ্চ ৮৩ রান করেন।
ম্যাচ শেষে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত স্বীকার করেন, ২৭৫ রানের লক্ষ্যটি যথেষ্ট ছিল, কিন্তু মাঝের ওভারে স্পিনাররা প্রয়োজনীয় উইকেট তুলে নিতে না পারায় ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হাতছাড়া হয়ে যায়।
২৭৫ রান তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। শরীফুল ইসলামের দুরন্ত বোলিংয়ে অধিনায়ক জশ ইংলিস মাত্র ১২ বলে ২১ রান করে স্কয়ার লেগে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফেরেন।
একই ওভারে ম্যাট রেনশকে লেগ স্টাম্পে বোল্ড করে শরীফুল পরিষ্কার করে দেন ক্রিজ। উইকেটের পর উইকেট পড়তে থাকলেও অন্যপ্রান্তে যেন পাথরের মতো অটল থাকেন তরুণ ওপেনার কুপার কনোলি।
ইনিংস জুড়ে একাই হাল ধরে রাখেন এই তরুণ অলরাউন্ডার। ১৩৪ বলে ১৩টি চার ও ৬টি ছক্কায় ১৪৯ রানের অবিশ্বাস্য ইনিংস খেলে দলকে জয়ের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যান তিনি।
শেষদিকে ব্যক্তিগত ১৫০ রানের মাইলফলকের সুযোগ থাকলেও একক নিতে অস্বীকার করে টেইলেন্ডারদের আগলে রাখেন কনোলি — দলের প্রয়োজনে নিজের রেকর্ডকে বিসর্জন দেওয়ার সেই মুহূর্তটি দর্শকদের নজর কাড়ে। অবশেষে শেষ দিকে মুস্তাফিজুর রহমানের বলে বোল্ড হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন তিনি।
বাংলাদেশের পক্ষে একমাত্র আলোর দিক হয়ে ওঠেন শরীফুল ইসলাম। ৪৮ রান খরচে ছয়টি উইকেট তুলে নিয়ে তিনি প্রমাণ করেন যে সুযোগ পেলে তিনি কতটা বিধ্বংসী হতে পারেন।
শেষ দুই ওভারে এক উইকেট হাতে থাকা অস্ট্রেলিয়ার মাত্র তিন রানের প্রয়োজন ছিল — সেই উত্তেজনার মুহূর্তে পুরো স্টেডিয়াম ছিল রুদ্ধশ্বাস। কিন্তু জাম্পা শেষ ওভারে শান্ত মাথায় সামনে এগিয়ে ড্রাইভ করে কভার দিয়ে বাউন্ডারি বের করে দলকে স্বস্তির জয় এনে দেন।
ম্যাচ শেষে কনোলি জানান, তিনি জাম্পা ও রাইলি মেরেডিথের উপর পূর্ণ আস্থা রেখেছিলেন। ম্যাচ সেরার পুরস্কার ওঠে তারই হাতে। সিরিজ সেরার পুরস্কার পান বাংলাদেশের মোসাদ্দেক হোসেন।
সিরিজ ২-১ ব্যবধানে বাংলাদেশ জিতলেও অস্ট্রেলিয়ার এই শেষ ম্যাচের লড়াই প্রমাণ করে দিয়েছে — ক্রিকেটে শেষ বল পর্যন্ত কিছুই নিশ্চিত নয়।
