দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের মামলায় পলাতক বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রোববার জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এই তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, অচিরেই তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদকে জানান, গত ১২ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার ই-মেইলের মাধ্যমে বাংলাদেশকে অবহিত করে যে বেনজীর আহমেদকে সেখানে আটক করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোল তার বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করেছিল।
সেই নোটিশের কার্যকারিতার আলোকে দুবাইয়ের নিরাপত্তা বাহিনী তার অবস্থান চিহ্নিত করে শনিবার রাতে তাকে আটক করে। তবে দুবাই পুলিশের তরফ থেকে এ বিষয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন ও অর্থ পাচারের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে।
চলতি বছরের ৮ মার্চ ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালত দুদকের অভিযোগপত্র গ্রহণ করে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। অভিযোগপত্রে উল্লেখ আছে, বেনজীরের বৈধ আয়ের তুলনায় প্রায় ১১ কোটি টাকারও বেশি অতিরিক্ত সম্পদের হদিস মিলেছে।
গত ৩ মে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচারকাজ শুরু হয় এবং ১৩ মে থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ পর্বও চলছিল। দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা বেনজীর আহমেদের এই গ্রেপ্তারকে মামলার তদন্ত ও বিচারের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
