বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
Logo
×

৫ আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধের নির্দেশ, আমানতকারীরা পাবেন সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা

প্রথম সমাচার ডেস্ক ১০ জুন ২০২৬, ১০:২৯ পূর্বাহ্ন

দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক সংকটে থাকা পাঁচটি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) বন্ধের প্রক্রিয়া শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালনা পর্ষদ বিলুপ্ত করে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের এক সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সংকটাপন্ন কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সার্বিক অবস্থা পর্যালোচনা করা হয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে বন্ধের আওতায় আসা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো— এফএএস ফাইন্যান্স, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, আভিভা ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠানে আমানত রাখা ব্যক্তি গ্রাহকরা সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত পাওয়ার সুযোগ পাবেন। এজন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পদ ও দায়-দেনা মূল্যায়নের পর প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।

অন্যদিকে বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি), প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স, জিএসপি ফাইন্যান্স এবং প্রাইম ফাইন্যান্সকে পুনরুদ্ধারের জন্য তিন মাস সময় দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তারা যদি আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার সক্ষমতা প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধেও অবসায়ন বা রেজল্যুশন প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া পাঁচ প্রতিষ্ঠানে প্রায় ২৭ হাজার ব্যক্তি আমানতকারীর প্রায় ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকার আমানত রয়েছে। প্রথম ধাপে পরিচালনা পর্ষদ বাতিল করে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হবে। এরপর প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক অবস্থা মূল্যায়ন করে আমানত ফেরতের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, উচ্চমাত্রার খেলাপি ঋণ, তীব্র তারল্য সংকট এবং আমানত ফেরত দিতে ব্যর্থ হওয়ার কারণে এসব প্রতিষ্ঠান বছরের পর বছর ধরে সংকটে রয়েছে। কয়েকটির খেলাপি ঋণের হার ৯০ শতাংশেরও বেশি বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে।

খাতসংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, দুর্বল সুশাসন, অনিয়ম এবং বিতর্কিত ঋণ বিতরণের কারণে অনেক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। এর ফলে গ্রাহকদের আস্থা কমে যায় এবং প্রতিষ্ঠানগুলো কার্যত অচল অবস্থায় পৌঁছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

 

শেয়ার করুন:
লিঙ্ক কপি হয়েছে
Loading
আরও নিউজ লোড হচ্ছে...