দীর্ঘ ছয় দশকের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামছে ইংল্যান্ড। ১৯৬৬ সালে নিজেদের মাটিতে একমাত্র বিশ্বকাপ জয়ের পর আর কোনো বড় আন্তর্জাতিক ট্রফি ঘরে তুলতে পারেনি ‘থ্রি লায়ন্স’রা। তাই ২০২৬ বিশ্বকাপে তাদের সামনে সবচেয়ে বড় লক্ষ্য ইতিহাসের সেই খরা ঘোচানো।
জার্মান কোচ টমাস টুখেলের অধীনে নতুনভাবে সাজানো হয়েছে ইংল্যান্ড দলকে। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি পারফরম্যান্সকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন। ফর্মহীনতার কারণে বেশ কয়েকজন পরিচিত তারকাকে স্কোয়াডের বাইরে রাখতেও দ্বিধা করেননি এই কোচ।
দলের আক্রমণভাগে নেতৃত্ব দেবেন অধিনায়ক হ্যারি কেইন। গোল করার অসাধারণ দক্ষতার কারণে যেকোনো ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে সক্ষম তিনি। তার সঙ্গে থাকছেন মার্কাস রাশফোর্ড, বুকায়ো সাকা, অ্যান্থনি গর্ডন ও মর্গান রজার্সের মতো গতিময় ও সৃজনশীল ফুটবলাররা। ফলে আক্রমণভাগ নিয়ে বেশ আশাবাদী ইংল্যান্ড সমর্থকরা।
মধ্যমাঠে বলের নিয়ন্ত্রণ ও খেলার গতি নির্ধারণের দায়িত্ব থাকবে ডেকলান রাইস এবং তরুণ এলিয়ট অ্যান্ডারসনের ওপর। প্রতিপক্ষের চাপ সামলে আক্রমণ ও রক্ষণভাগের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে তাদের।
তবে ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ রক্ষণভাগ। চোট ও অনভিজ্ঞতার কারণে ডিফেন্স নিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তায় রয়েছে দলটি। তরুণ নিকো ও’রাইলি লেফট-ব্যাক হিসেবে শুরু করতে পারেন, আর রিস জেমস দীর্ঘদিন ধরেই ইনজুরির সঙ্গে লড়াই করছেন। অভিজ্ঞ সেন্টার-ব্যাক জন স্টোনসও পুরো মৌসুমে চোটের কারণে নিয়মিত খেলতে পারেননি।
গোলবারের নিচে নির্ভরতার প্রতীক হয়ে থাকবেন জর্ডান পিকফোর্ড। গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে তার অভিজ্ঞতা ইংল্যান্ডের জন্য বড় সম্পদ হতে পারে।
এবারের বিশ্বকাপে আবহাওয়া, স্বল্প বিশ্রামে ম্যাচ খেলা এবং উচ্চভূমিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মতো চ্যালেঞ্জও মোকাবিলা করতে হবে ইংল্যান্ডকে। এসব বাধা অতিক্রম করেই শিরোপার পথে এগোতে হবে টুখেলের দলকে।
আগামী ১৭ জুন ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে ইংল্যান্ড। বহু প্রতীক্ষিত শিরোপা জয়ের স্বপ্ন পূরণে শুরু থেকেই নিজেদের সেরাটা দিতে মরিয়া থাকবে ‘থ্রি লায়ন্স’রা।
