ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাঈদ খতিবজাদে আজ জানিয়েছেন যে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সরাসরি আলোচনার নতুন কোনো তারিখ এখনো নির্ধারিত হয়নি। একই সাথে তিনি ওয়াশিংটনের “সর্বোচ্চ দাবি” ছেড়ে না দেওয়ার অবস্থানের কড়া সমালোচনা করেছেন
ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল জানিয়েছে, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে সম্প্রতি তেহরান সফর করে মার্কিন প্রস্তাব উপস্থাপন করেছেন, যা এখনো পর্যালোচনাধীন রয়েছে। কাউন্সিলের বক্তব্য, যেকোনো নতুন আলোচনার আগে যুক্তরাষ্ট্রকে “অতিরিক্ত দাবি” পরিহার করে বাস্তবতার নিরিখে অবস্থান নিতে হবে।
হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতি এই মুহূর্তে অত্যন্ত উত্তপ্ত। শনিবার ইরান একবার প্রণালী বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিলেও কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তা আবার বন্ধ করে দেয়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানি বন্দরে অবরোধ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেওয়ার পরপরই তেহরান এই সিদ্ধান্ত নেয়।
বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরে নোঙর করা কোনো জাহাজ যেন নড়াচড়া না করে, কারণ হরমুজ প্রণালীর কাছে যাওয়াকে “শত্রুর সাথে সহযোগিতা” বলে বিবেচনা করা হবে এবং সেই জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
ব্রিটিশ সামরিক সংস্থা ইউকেএমটিও নিশ্চিত করেছে যে আইআরজিসির দুটি গানবোট প্রণালী পার হওয়ার চেষ্টা করা একটি তেলবাহী জাহাজে গুলি চালিয়েছে, তবে জাহাজ ও ক্রু নিরাপদ রয়েছে।
ইরানের দাবির মধ্যে রয়েছে হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ, লেবাননসহ গোটা অঞ্চলে যুদ্ধবিরতি এবং বিদেশে আটকে থাকা সম্পদ মুক্তি। এর আগে আইসল্যামাবাদে অনুষ্ঠিত আলোচনায় মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, এবং সেই বৈঠক ২১ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলেছিল।
হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়ার আগ পর্যন্ত বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের প্রায় ২৫ শতাংশ এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হতো।
এই সংকটে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক অর্থনীতিতে তীব্র চাপ সৃষ্টি হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা বিরাজ করছে।
পরিস্থিতি এখনো দ্রুত পরিবর্তনশীল এবং কূটনৈতিক সমাধানের পথ এই মুহূর্তে অনিশ্চিত।
সূত্র: আলজাজিরা/সিএনবিসি
