গতকাল খালেদ মাহমুদ সুজনের অধিনায়কত্ব নিয়ে লেখেছি। সেখানে কিছু কমেন্ট এসেছে খালেদ মাসুদ পাইলটের অধিনায়কত্বের ব্যর্থতা বিষয়েও। এটি আমার জানা আছে, লিখতামও। তবে যেহেতু নামের মিল ও দুজনের অধিনায়কত্ব করার সময়কালও কাছাকাছি, তাই আজ ২য় কিস্তিতে পাইলটের অধিনায়কত্বের বিষয়ে লিখছি।
২০০১ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দলকে ১২ টেস্টে নেতৃত্ব দিয়ে জয়শুণ্য থাকেন পাইলট, নেই কোন ড্র। তখনকার সময়ে প্রতিপক্ষরা বড় দল বিবেচনায় পরাজয়ই ছিলো টেস্টের নিয়তি। দলগত বাজে পারফরম্যান্স হলেও অধিনায়ক হিসেবে দায়টা তাকেই নিতে হতো ম্যাচ শেষে।
১২ টেস্টে দলকে নেতৃত্ব দেয়ার বিপরীতে ২০০১-০৬ পর্যন্ত ওয়ানডেতে ৩০ ম্যাচ দলকে নেতৃত্ব দিয়ে ৪টি জয় পেয়েছেন, ২ ম্যাচে রেজাল্ট হয়নি, পরাজয় ২৪ ম্যাচে। টেস্টে শতভাগ ব্যর্থ হলেও ওয়ানডেতে ৪ জয়, তখনকার সময়ের বিবেচনায় খারাপ হলেও অন্তত ম্যাচ জিততে পেরেছেন ৪টি, এটি স্বস্তির যে, অন্তত জয়হীন থাকেননি অধিনায়ক হিসেবে। যদিও ২০০৩ সালের বিশ্বকাপে কানাডা ও কেনিয়ার সাথে পরাজয় সহ ৬ ম্যাচ পরাজয়ের লজ্জা পাইলেটের নেতৃত্বেই। এই বিশ্বকাপে বাজে খেলার পরই অধিনায়কত্ব হারান এবং পরবর্তীতে খালেদ মাহমুদ সুজন অধিনায়কত্ব করতে গিয়েও ব্যর্থ হন। পাইলট অধিনায়কত্ব হারালেও পরবর্তীতে অনিয়মিত ভাবে ২০০৬ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।
জাতীয় দলের হয়ে সবমিলিয়ে ৩২ ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়ে ৪ জয় পেয়েছেন। যার মধ্যে ২০০৬ সালে কেনিয়ার বিপক্ষে ৩ ম্যাচে কেনিয়াকে হোয়াইটওয়াশ করার গৌরব ছিলো তৎকালীন সময়ে ভালো সফলতা, যেখানে ২০০৩ সালের বিশ্বকাপে কেনিয়ার সাথে পরাজয়ছিলো হতাশাজনক। পরবর্তী ৩ বছরের মধ্যে কেনিয়ার চেয়ে অনেক ভালো দলে পরিণত হয়েছিল বাংলাদেশ। অপর জয়টিও এসেছিল ২০০৬ সালে, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। ৩০ ম্যাচ অধিনায়কত্ব করার মধ্যে নিয়মিত অধিনায়ক হিসেবে ব্যর্থ হলেও শেষের দিকে হাবিবুল বাশারের অবর্তমানে অনিয়মিত অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে পেয়েছেন ৪ জয়।
অধিনায়ক হিসেবে পাইলটকে ব্যর্থ বলা গেলেও উইকেটকিপার পাইলট ছিলেন তৎকালীন সময়ে এশিয়ার সেরা কিপার, ব্যাট হাতে ১৯৯৭ সালে আইসিসি ট্রফি জয়ের ম্যাচে কেনিয়ার বিপক্ষে ৭ বলে ২ ছয়ে ১৫ রানের অপরাজিত ইনিংস দারুণ ছিলো। এছাড়া উইন্ডিজের বিপক্ষে ২০০৪ সালে ড্র এর ম্যাচে শতক করেছিলেন। ওয়ানডেতে ক্যারিয়ার সেরা ৭১ রানের ইনিংস খেলেছিলেন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে।
যেহেতু অধিনায়কত্ব নিয়ে এই লেখা, তাই শেষ করছি অধিনায়কত্ব নিয়ে কথা বলেই। পাইলটের অধিনায়ত্বে ২০০৩ সালের বিশ্বকাপে চূড়ান্ত ব্যর্থতা খুবই হতাশাজনক বিষয় ছিলো তখন। কানাডা ও কেনিয়ার সাথে জয় পাওয়া প্রত্যাশিত ছিলো কিন্তু এই ২ ম্যাচ সহ হেরেছে বাংলাদেশ। এরপরই নেতৃত্ব হারান। ২০০৩ সালে খালেদ মাহমুদ সুজন টেস্ট ও ওয়ানডে মিলিয়ে ২৪ ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়ে জয়শুণ্য থেকে আর কখনো অধিনায়কত্ব না পেলেও পাইলট সুযোগ পেয়েছিলেন বাশারের পরিবর্তে এবং ৪টি জয়ের দেখা পেয়েছেন কেনিয়াকে ৩ ম্যাচে হোয়াইটওয়াশ করা সহ। তবে সবমিলিয়ে ব্যর্থ অধিনায়কদের তালিকায় ওপরের দিকেই থাকবেন পাইলট।
