করাচির ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত পিএসএল ২০২৬-এর ২৯তম ম্যাচে কুয়েটা গ্ল্যাডিয়েটরসকে (QG) ১১৮ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করেছে পেশোয়ার জালমি (PZ)। পেশোয়ারের দেওয়া ২৫৬ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে কুয়েটা ১৮.১ ওভারে মাত্র ১৩৭ রানেই অলআউট হয়ে যায়। ব্যাট হাতে ৫২ বলে অপরাজিত ১০০ রানের এক মহাকাব্যিক ইনিংস খেলে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতে নেন জালমি অধিনায়ক বাবর আজম।
ম্যাচের শুরুতে টসে জিতে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন কুয়েটা অধিনায়ক সৌদ শাকিল। তবে তার এই সিদ্ধান্তকে রীতিমতো দুঃস্বপ্নে পরিণত করেন পেশোয়ারের ওপেনাররা। শুরুতে মোহাম্মদ হারিস ৬ বলে ১৬ রান করে আউট হলেও দ্বিতীয় উইকেটে বাবর আজম ও কুশল মেন্ডিস ১৩৫ রানের এক বিধ্বংসী জুটি গড়েন। তাদের ব্যাটে চড়ে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৩ উইকেটে ২৫৫ রানের রেকর্ড সংগ্রহ পায় পেশোয়ার জালমি।
পেশোয়ারের ইনিংসে মূল নায়ক ছিলেন বাবর আজম, যিনি ৬টি চার ও ৪টি ছক্কার সাহায্যে নিজের ১২তম টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। তাকে যোগ্য সঙ্গ দিয়ে কুশল মেন্ডিস খেলেন ৪৪ বলে ৮৩ রানের এক টর্নেডো ইনিংস (১০টি চার ও ৩টি ছক্কা)। শেষ দিকে অ্যারন হার্ডি ১০ বলে ২৬ রান করে অপরাজিত থাকেন। কুয়েটার বোলারদের মধ্যে আলজারি জোসেফ, আবরার আহমেদ ও উসমান তারিক একটি করে উইকেট নিলেও প্রত্যেকেই ছিলেন বেশ ব্যয়বহুল।
২৫৬ রানের আকাশচুম্বী লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে কুয়েটা গ্ল্যাডিয়েটরস শুরু থেকেই চাপে পড়ে যায়। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে তারা লড়াই থেকে ছিটকে পড়ে। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩৪ রান করেন বেভন জ্যাকবস। এছাড়া শামিল হোসেন ২১ এবং দিনেশ চান্দিমাল ১৯ রান করলেও টপ অর্ডারের ব্যর্থতায় বড় কোনো জুটি গড়তে পারেনি কুয়েটা। ফলে বড় পরাজয় বরণ করে নিতে হয় তাদের।
পেশোয়ার জালমির বোলাররা ছিল অত্যন্ত আক্রমণাত্মক। বিশেষ করে আলি রাজা মাত্র ৩.১ ওভারে ৯ রান খরচ করে ৩টি উইকেট শিকার করেন। তাকে যোগ্য সহায়তা দেন মোহাম্মদ বাসিত আলী, তিনিও ২৬ রান দিয়ে ৩টি উইকেট দখল করেন। এছাড়া অ্যারন হার্ডি ২টি উইকেট নেন। অলরাউন্ড নৈপুণ্য ও বাবরের রাজকীয় সেঞ্চুরিতে ভর করে পিএসএলের আসরে নিজেদের শক্তিমত্তার প্রমাণ দিল পেশোয়ার জালমি।
