নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ওয়ানডেতে নাজমুল হোসেন শান্তর অসাধারণ সেঞ্চুরির সুবাদে বাংলাদেশ ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৬৫ রানের লড়াইয়ের সংগ্রহ গড়েছে।
চট্টগ্রামের বীর শ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক টম ল্যাথাম টস জিতে ফিল্ডিং বেছে নেন।
ব্যাটিংয়ে নেমে বাংলাদেশ পাওয়ারপ্লেতেই মাত্র ৩৬ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায়। সেই কঠিন পরিস্থিতিতে শান্ত এবং লিটন দাস উইকেটে দাঁড়িয়ে দলকে পুনরুদ্ধারের পথ দেখাতে শুরু করেন। দুজনের জুটিতে ১৩৫ রান যোগ হয় এবং ৩০ ওভার শেষে বাংলাদেশের রান দাঁড়ায় ১৩৫।
শান্ত দুর্দান্ত সেঞ্চুরি হাঁকানোর পর আউট হলে ৪৪তম ওভারে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ২২৫/৫। তাঁর এই শতকটি ওয়ানডে ক্যারিয়ারের চতুর্থ সেঞ্চুরি, যা বাংলাদেশ ক্রিকেট মহলে বিশেষ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। শান্তর বিদায়ের পর শেষ কয়েক ওভারে বাংলাদেশের ব্যাটাররা আরও রান যোগ করে দলীয় সংগ্রহ ২৬৫-এ নিয়ে যান, যদিও ৮টি উইকেট হারাতে হয়।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি বাংলাদেশের। ওপেনার সাইফ হাসান মাত্র ২ বলে শূন্য রানে ও’রুর্কের বলে উইকেটরক্ষক ল্যাথামের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। তানজিদ হাসান তামিমও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি, ৫ বলে মাত্র ১ রান করে একই বোলারের বলে বোল্ড হন। তিন নম্বরে নামা সৌম্য সরকার কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন, ২৬ বলে ১৮ রান করলেও শেষ পর্যন্ত ও’রুর্কের কাছেই বোল্ড হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন। ফলে মাত্র ৩২ রানের মধ্যে তিন উইকেট হারিয়ে চরম চাপে পড়ে যায় টাইগাররা।
সেই কঠিন পরিস্থিতিতে দলকে রক্ষা করেন শান্ত ও লিটন। লিটন দাস ৯১ বলে ৭৬ রানের পরিশ্রমী ইনিংস খেলেন এবং শান্তর সঙ্গে গড়েন ১৬০ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি। তবে শেষ পর্যন্ত লেনক্সের বলে বোল্ড হয়ে ফিরতে হয় তাকে।
অন্যদিকে শান্ত একাই লড়াই চালিয়ে যান দৃঢ়তার সাথে। ১১৯ বলে ৯ চার ও ২ ছক্কায় ১০৫ রান করে ক্যারিয়ারের চতুর্থ ওয়ানডে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি, তবে শেষমেশ লেনক্সের বলে নাথান স্মিথের হাতে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন।
শেষ দিকে মিরাজ ১৮ বলে ২২ রানের দ্রুতগতির ইনিংস খেলে দলকে এগিয়ে নেন, কিন্তু ফক্সক্রফটের বলে উইল ইয়াংয়ের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। শরীফুল ইসলাম ১ ও তানভীর ইসলাম শূন্য রান করে দ্রুত বিদায় নেন। তৌহিদ হৃদয় ২৯ বলে ২ চার ও ১ ছক্কায় অপরাজিত ৩৩ এবং মুস্তাফিজুর রহমান অপরাজিত ৩ রান নিয়ে ইনিংস শেষ করেন।
উল্লেখ্য, সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে নাহিদ রানার পাঁচ উইকেট ও তানজিদ হাসান তামিমের ৭৬ রানের সহায়তায় বাংলাদেশ ছয় উইকেটে জয় পেয়ে সিরিজ ১-১ সমতায় আনে। ফলে আজকের ম্যাচটি সিরিজের ভাগ্য নির্ধারণী লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে।
এখন দ্বিতীয় ইনিংসে নিউজিল্যান্ডকে ২৬৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে হবে। বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণ, বিশেষত নাহিদ রানার গতি এবং স্পিনারদের কার্যকারিতার উপর নির্ভর করবে সিরিজের ফলাফল।
