আধুনিক যুগে বিদ্যুৎ ছাড়া কল্পনা করা যায় না। কিন্তু সেই বৈদ্যুতিক লাইনে ত্রুটির বা জঞ্জালের কারণে বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অধিকাংশ বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনা কিছু সাধারণ সতর্কতা অবলম্বন করলেই এড়ানো সম্ভব।
পুরোনো তার ও সংযোগ নিয়মিত পরীক্ষা করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা
অনেক বাড়িতে বছরের পর বছর একই বৈদ্যুতিক তার ব্যবহার করা হয়। সময়ের সঙ্গে তারের আবরণ ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে, যা শর্ট সার্কিট বা অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি বাড়ায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্দিষ্ট সময় পরপর দক্ষ ইলেকট্রিশিয়ান দিয়ে বৈদ্যুতিক সংযোগ পরীক্ষা করানো উচিত।
একটি মাল্টিপ্লাগে একসঙ্গে অনেক উচ্চক্ষমতার যন্ত্র ব্যবহার করলে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়। এতে তার গরম হয়ে যেতে পারে এবং আগুন লাগার ঝুঁকি বাড়ে। বিশেষ করে ফ্রিজ, মাইক্রোওয়েভ, বৈদ্যুতিক হিটার ও এসির মতো যন্ত্র আলাদা সংযোগে ব্যবহার করাই নিরাপদ।
সুইচবোর্ড বা সকেট থেকে স্পার্ক বের হওয়া কিংবা পোড়া গন্ধ পাওয়া গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। এসব লক্ষণ সাধারণত অভ্যন্তরীণ ত্রুটির ইঙ্গিত দেয়।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) বিদ্যুৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ফুয়াদ হাসান বলেন, বৈদ্যুতিক যন্ত্র চালুর সময় অস্বাভাবিক শব্দ, অতিরিক্ত তাপ বা স্পার্ক দেখা গেলে তাৎক্ষণিকভাবে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার অন্যতম সাধারণ কারণ হলো ভেজা হাতে সুইচ বা বৈদ্যুতিক যন্ত্র স্পর্শ করা। রান্নাঘর, বাথরুম বা পানি ব্যবহারের স্থানগুলোতে অতিরিক্ত সতর্কতা প্রয়োজন।
বাজারে কমদামী ও নিম্নমানের বৈদ্যুতিক পণ্যের ব্যবহার এখনও ব্যাপক। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানসম্মত তার, সুইচ, সার্কিট ব্রেকার ও অন্যান্য সরঞ্জাম ব্যবহার করলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে।
আধুনিক বৈদ্যুতিক ব্যবস্থায় সার্কিট ব্রেকার ও সঠিক আর্থিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো ত্রুটি বা অতিরিক্ত বিদ্যুৎ প্রবাহ হলে সার্কিট ব্রেকার দ্রুত সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করতে পারে।
বাড়িতে শিশু থাকলে খোলা সকেট বা ঝুলন্ত তার বিপজ্জনক হতে পারে। নিরাপত্তা কভার ব্যবহার এবং শিশুদের নাগালের বাইরে বৈদ্যুতিক সংযোগ রাখা জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনার বেশিরভাগই অসচেতনতা ও অবহেলার কারণে ঘটে। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, মানসম্মত সরঞ্জাম ব্যবহার এবং সামান্য ত্রুটিকেও গুরুত্ব দিলে ঘরকে আরও নিরাপদ রাখা সম্ভব। বিদ্যুৎ আমাদের জীবনকে সহজ করে তুললেও এর নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
দেশে প্রতি বছর অসংখ্য অগ্নিকাণ্ড ও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার ঘটনার পেছনে বৈদ্যুতিক ত্রুটি অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়। অনেক সময় একটি ঢিলা সংযোগ, ক্ষতিগ্রস্ত তার কিংবা নিম্নমানের বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম থেকেই শুরু হয় বড় ধরনের দুর্ঘটনা।
