বিশ্বকাপ ফুটবলের দীর্ঘ ইতিহাসে গোল করার দিক থেকে সবার ওপরে আছেন জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোজা। চারটি বিশ্বকাপ আসরে খেলে তিনি জালে বল পাঠিয়েছেন মোট ১৬ বার। ২০০২ বিশ্বকাপে সৌদি আরবের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে নিজের বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু করা এই স্ট্রাইকার শেষবার গোল করেন ২০১৪ আসরে, যখন জার্মানি স্বাগতিক ব্রাজিলকে সেমিফাইনালে ৭-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছিল।
এবার সে লিস্টে সর্বোচ্চ গোলদাতার নাম লিখালেন লিওনেল মেসি। আজ (১৭ জুন) বিশ্বকাপে আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেনটিনার প্রথম ম্যাচে মেসির হ্যাট্রিক তাকে সর্বোচ্চ গোলদাতা বানিয়ে দেন। বিশ্বকাপ শেষ হতে এখনো অনেক বাকি। সবার এখন চোখ বিশ্বকাপ শেষ ইতিহাসে অনন্য রেকর্ড করবেন মেসি।
দুই নম্বরে আছেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি রোনালদো নাজারিও, ১৫ গোল নিয়ে। ২০০২ বিশ্বকাপের ফাইনালে জার্মানির বিপক্ষে জোড়া গোল করা এই তারকাকেই ২০১৪ সালে টপকে গিয়েছিলেন ক্লোজা।
তিন নম্বরে রয়েছেন দুজন, যৌথভাবে। একজন পশ্চিম জার্মানির গার্ড মুলার, অন্যজন বর্তমান সময়ের কিলিয়ান এমবাপে। দুজনের গোলসংখ্যাই ১৪। চলতি বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে সেনেগালের বিপক্ষে জোড়া গোল করে ফ্রান্সের এই তারকা পেলেকে পেছনে ফেলে মুলারের পাশে নাম লিখিয়েছেন, এবং সামনে তাকিয়ে আছেন ক্লোজার রেকর্ডের দিকে।
পাঁচ নম্বরেও যৌথভাবে দুজন, ফ্রান্সের জুস্ত ফঁতেন এবং আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি, দুজনেরই ১৩ গোল। ফঁতেনের পুরো গোলসংখ্যাই এসেছিল একটিমাত্র আসরে, ১৯৫৮ বিশ্বকাপে; এক আসরে এত গোলের রেকর্ড আজও অক্ষত এবং বর্তমান সম্প্রসারিত ফরম্যাটেও এটি ভাঙা কঠিন বলেই ধারণা করা হয়। মেসি অবশ্য এই সংখ্যায় পৌঁছেছেন পাঁচটি আসর ও ছাব্বিশটি ম্যাচ খেলে। ২০২২ সালে কাঙ্ক্ষিত শিরোপা জয়ের পর এবার ষষ্ঠ বিশ্বকাপে খেলতে নামা মেসির সামনে তালিকায় আরও ওপরে ওঠার সুযোগ রয়েছে।
সাত নম্বরে ব্রাজিলের পেলে, ১২ গোল নিয়ে। আট নম্বরে যৌথভাবে হাঙ্গেরির শান্দর কচিস এবং জার্মানির ইয়ুর্গেন ক্লিন্সমান, দুজনের গোলসংখ্যাই ১১। তারপর দশ গোল করে আরও ছয়জন আছেন এই তালিকায়— পশ্চিম জার্মানির হেলমুট রান, ইংল্যান্ডের গ্যারি লিনেকার, আর্জেন্টিনার গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতা, পেরুর তেওফিলো কুবিইয়াস, জার্মানির টমাস মুলার এবং পোল্যান্ডের গ্রেগর্জ লাতো।
আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হলেও বিশ্বকাপের মঞ্চে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর গোলসংখ্যা মাত্র আট, যা আর্জেন্টিনার দিয়েগো মারাদোনার সমান। ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন এবং ব্রাজিলের নেইমারও আট গোল করে এই কাতারে আছেন, এবং চলতি আসর শেষ হওয়ার আগে তাদের সামনেও সংখ্যাটা বাড়ানোর সুযোগ থাকছে।
৪৮ দলের সম্প্রসারিত ফরম্যাটে উত্তর আমেরিকায় চলমান এই বিশ্বকাপ এখনও শেষ হয়নি, তাই এমবাপে-মেসিদের মতো তারকাদের হাত ধরে সর্বকালের গোলদাতার এই তালিকায় আসর চলাকালীনই আরও পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা থেকে যাচ্ছে।
