মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই ইসরায়েলের সঙ্গে দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। ইরানে চলমান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ থেকে ইতালিকে দূরে রাখার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। পলিটিকোর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ইতালির ভেরোনায় এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে মেলোনি বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে সরকার ইসরায়েলের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি নবায়নের প্রক্রিয়া স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’
২০০৩ সালে দুই দেশের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে সামরিক সরঞ্জাম বিনিময় এবং প্রযুক্তিগত গবেষণার জন্য চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। প্রতি পাঁচ বছর অন্তর এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবায়ন হয়ে থাকে।
গাজায় ইসরায়েলি হামলার কারণে মানবাধিকার কর্মীরা দীর্ঘদিন ধরেই নৈতিক ও আইনি দিক বিবেচনা করে এই চুক্তি বাতিলের জন্য ইতালির ওপর চাপ দিয়ে আসছিলেন।
ইতালি ও ইসরায়েলের মধ্যে সম্প্রতি উত্তেজনা বৃদ্ধির পেছনে ৮ এপ্রিলের একটি ঘটনা কাজ করেছে বলে জানাচ্ছে সংবাদমাধ্যম। সেদিন লেবাননের বৈরুতের কাছে ইতালীয় শান্তিরক্ষা মিশরের একটি বহরের ওপর ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী গুলিবর্ষণ করে। যদিও কোনো সৈন্য হতাহত হয়নি, তবে মেলোনি এই ঘটনাকে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য বলে অভিহিত করেছেন। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি এই ইস্যুতে ২০২৪ সালের পর তৃতীয়বারের মতো ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছেন।
গাজা যুদ্ধে ইসরায়েলকে সমর্থন দিলেও ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর মেলোনি তার অবস্থান পরিবর্তন করতে শুরু করেন। বিশেষ করে খ্রিস্টানদের পবিত্র দিন পাম সান্ডেতে জেরুজালেমের চার্চ অব দ্য হোলি সেপালকারে ক্যাথলিক নেতাদের প্রার্থনা করতে বাধা দেওয়ায় তিনি ইসরায়েলের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বিষয়টিকে ‘ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর আঘাত’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
গত সপ্তাহে পার্লামেন্টে দেওয়া এক ভাষণে লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর আচরণেরও তীব্র নিন্দা জানান ইতালির প্রধানমন্ত্রী।
