উয়েফা ইউরোপা লিগে প্রত্যাবর্তনের যেন এক মহাকাব্যই লিখল নটিংহ্যাম ফরেস্ট। বৃহস্পতিবার রাতে ঘরের মাঠ সিটি গ্রাউন্ডে ১০ জনের পোর্তোকে ১-০ গোল ব্যবধানে হারায় তারা। আর তাতেই দীর্ঘ ৪২ বছর পর সেমিফাইনালে উঠল ক্লাবটি। শেষবার ১৯৮৪ সালে ইউরোপা লিগের শেষ চারে খেলেছিল নটিংহ্যাম ফরেস্ট।
গেল সপ্তাহে পর্তুগালের মাটিতে অনুষ্ঠিত হয় কোয়ার্টার ফাইনাল পর্বের প্রথম লেগ। সেই ম্যাচটি ড্র হয়েছিল ১-১ গোল ব্যবধানে। তাই শেষ চারে জায়গা করার জন্য দুদলেরই জয়ের কোনো বিকল্প ছিল না।
গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচের শুরুতেই ধাক্কা খায় পর্তুগিজ ক্লাব পোর্তো। ম্যাচের অষ্টম মিনিটেই তারা ১০ জনের দলে পরিণত হয়। এসময় নটিংহ্যাম ফরেস্টের স্ট্রাইকার ক্রিস উডকে মারাত্মক ফাউল করেন পোর্তোর ডিফেন্ডার ইয়ান বেদনারেক। ভিএআর’র সাহায্যে তাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠের বাইরে পাঠান রেফারি।
লাল কার্ড কাণ্ডের ঠিক চার মিনিট পরেই উল্লাসে ফেটে পড়ে সিটি গ্রাউন্ড। নেকো উইলিয়ামসের পাস থেকে দুর্দান্ত শটে গোল করেন মর্গান গিবস হোয়াইট। শটটি পাবলো রোজারিওর গায়ে লেগে কিছুটা দিক পরিবর্তন করে জালে জড়ায়। মায়ের মৃত্যুর কারণে খেলতে না পারা সতীর্থ এলিয়ট অ্যান্ডারসনকে এই গোলটি উৎসর্গ করেন গিবস হোয়াইট।
এই একটি গোলের লিড ম্যাচের শেষ পর্যন্ত ধরে রাখেন ইংলিশ ক্লাবটি। ফলে ১-০ গোল ব্যবধানে জিতে যায় তারা।
ঐতিহাসিক জয়ের রাতে ফরেস্টের জন্য দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে খেলোয়াড়দের ইনজুরি। বেদনারেকের ফাউলের শিকার হয়ে ১৫ মিনিটের মাথায় মাঠ ছাড়তে হয় ক্রিস উডকে। এছাড়া ম্যাচের শেষদিকে ইনজুরিতে পড়েছেন দলের নির্ভরযোগ্য ডিফেন্ডার মুরিলো ও কালাম হাডসন ওডোই। প্রিমিয়ার লিগে অবনমন এড়ানোর লড়াইয়ে থাকা দলটির জন্য এই ইনজুরিগুলো হতে পারে বড় মাথাব্যথার কারণ।
পহেলা মে অনুষ্ঠিত হবে ইউরোপা লিগের প্রথম লেগ। নটিংহ্যাট ফরেস্ট মুখোমুখি হবে অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে। অন্য সেমিফাইনালে পরস্পরের বিপক্ষে মাঠে নামবে ব্রাগা ও ফ্রেইবার্গ।
