এম.এ আজিজ স্টেডিয়ামে বর্তমানে জাতীয় দল বা আইসিসি স্বীকৃত লিষ্ট এ, প্রথম শ্রেণী বা টি২০ ম্যাচ হয় না। এখানে চট্টগ্রামের স্থানীয় লীগ আয়োজন হয় মাত্র। যদিও ২০১৩ সালে বিপিএলের কিছু ম্যাচ আয়োজন হয়েছিল এখানে। এরপর এক সময় বাফুফের অধীনে চলে যায় স্টেডিয়ামটি এবং পেশাদার ফুটবল লীগের ম্যাচ আয়োজন হয়| সবশেষে এখন আবার ক্রিকেটের অধীনে এসেছে মাঠটি।
চট্টগ্রামের সাগরিকায় অবস্থিত স্টেডিয়াম চালুর পূর্বে এম.এ আজিজ স্টেডিয়ামেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট হতো| ১৯৮৮ সালে প্রথম আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ম্যাচ আয়োজন করা এম.এ আজিজ স্টেডিয়ামে ভারত, সাউথ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড, ইংল্যান্ড, উইন্ডিজ ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মোট ৮টি টেস্ট খেলেছে বাংলাদেশ, জয় ১ ম্যাচ ও ৭ ম্যাচে পরাজয়। ২০০৫ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ঐতিহাসিক টেস্ট সিরিজ জয়ের একমাত্র জয়টি এই স্টেডিয়ামেই এসেছে।
টেস্টের মতো ওয়ানডেতে ভারত, ইংল্যান্ড, পাকিস্তান, উইন্ডিজ ও নিউজিল্যান্ডের মতো বড় দলগুলোর বিপক্ষে খেলেছে বাংলাদেশ। ১৯৮৮ সাল থেকে এখানে ১০টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ| টেস্টের মতো একমাত্র ওয়ানডে জয়ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। ১০ ম্যাচের ৮টিতে পরাজয়, ১ জয় ও ১ ম্যাচে রেজাল্ট হয়নি।
২০০৫ সালে সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ হয় এই মাঠে। এরপর কেটে গেছে ২০ বছর। আজকের দিনে অনেকে জানেও না যে, এখানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে হয়েছে এবং দেশ বিদেশের সেরা ক্রিকেটারদের পদচারনায় মুখরিত হয়ে থাকতো স্টেডিয়াম প্রাঙ্গন। এখন সিজেকেএস এর কার্যক্রম, স্থানীয় লীগ ও মাঠের চারপাশে রমরমা রেস্টুরেন্ট ব্যবসা চলছে| ক্রিকেট পাড়ার বদলে এই এলাকাকে ভোজন পাড়াও বলা যায়।
আমার একটা বিষয় অবাক লাগে, ক্রিকেট বিশ্ব এগিয়ে চলছে| বাংলাদেশের ক্রিকেটও আগের চেয়ে উন্নতি হয়েছে এবং ক্রিকেটার সংখ্যা বাড়ছে দিন দিন। চট্টগ্রামে হয়তো আরেকটা স্টেডিয়াম হয়েছে, একই শহরে হয়তো ২ ম্যাঠে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট চালানো যাবেন না বা হবে না| তাই বলে এম এ আজিজ স্টেডিয়ামকে একেবারে অবহেলায় ফেলে রাখার কোন যৌক্তিকতা পাই না। চট্টগ্রামের সর্বোচ্চ প্রিমিয়াম লীগ এখানে হয় যদিও, তবে বিসিবি চাইলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট না হোক, অন্তত জাতীয় লীগ, বিসিএল ও বিপিএল আয়োজন করতে পারে। এসব কিছু না হলেও যেহেতু চট্টগ্রামের সর্বোচ্চ লীগগুলো হয়, সেহেতু গ্যালারী সহ সবকিছু আধুনিকায়ক করে মানোন্নয়ন করতে পারে| কিন্তু এটি এখন পরে আছে অযত্মে এবং শুধুমাত্র নামমাত্র ক্রিকেটীয় কার্যক্রমে।
