যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চলমান যুদ্ধ অবসানে কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরালো করেছে ইরান। এরই অংশ হিসেবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সোমবার রাশিয়া পৌঁছেছেন এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হচ্ছেন।
মস্কো পৌঁছানোর আগে অত্যন্ত ব্যস্ত সপ্তাহান্ত কাটিয়েছেন আরাগচি। মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তিনি একবার ওমান এবং দুইবার পাকিস্তান সফর সম্পন্ন করেন।
রাশিয়ায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত কাজেম জালালি জানিয়েছেন, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে দুই দেশের দৃষ্টিভঙ্গি অভিন্ন এবং এই সফর দুই দেশের মধ্যে চলমান ঘনিষ্ঠ পরামর্শেরই অংশ।
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ সামরিক অভিযানের ঘোষণা দেন। দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পর পাকিস্তানে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা শুরু হলেও তা কোনো শান্তি চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি।
এই অচলাবস্থার মধ্যেই আলোচনা সচল রাখতে ইরান পাকিস্তানের মাধ্যমে মার্কিন পক্ষকে লিখিত বার্তা পাঠিয়েছে, যেখানে পারমাণবিক কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালিসহ তেহরানের মূল অবস্থান ও শর্তগুলো তুলে ধরা হয়েছে।
রাশিয়া এই সংকটে শুরু থেকেই ইরানের পক্ষে কূটনৈতিক মিত্র হিসেবে ভূমিকা রেখে আসছে। মস্কো ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিজ মাটিতে সংরক্ষণ বা পুনঃপ্রক্রিয়াকরণের প্রস্তাব দিয়েছে। এছাড়া রাশিয়া মার্কিন সামরিক সম্পদের গোয়েন্দা তথ্য ইরানের সাথে ভাগ করে নিচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
অন্যদিকে ট্রাম্প জানিয়েছেন, আলোচনা ফোনে অব্যাহত থাকবে এবং যুদ্ধ শিগগিরই শেষ হতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি।
তবে সরাসরি মুখোমুখি আলোচনা পুনরায় শুরু হওয়ার কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত এখনো মেলেনি। এই জটিল পরিস্থিতিতে পুতিনের সাথে আরাগচির এই বৈঠক ইরানের চলমান কূটনৈতিক অভিযানে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
খবর আল-জাজিরা
