২০২৬ পিএসএল-এর ২২তম ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল পেশোয়ার জালমি এবং মুলতান সুলতানস। করাচির ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে মুলতান সুলতানসকে ২৪ রানে পরাজিত করে নিজেদের অপরাজিত থাকার রেকর্ড অক্ষুণ্ণ রেখেছে বাবর আজমের পেশোয়ার জালমি। টসে হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে পেশোয়ার জালমি নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৯৬ রান সংগ্রহ করে, জবাবে মুলতান সুলতানস ৮ উইকেট হারিয়ে ১৭২ রানেই থমকে যায়। ঝোড়ো ব্যাটিংয়ের মাধ্যমে ম্যাচের ভিত্তি গড়ে দেওয়া পেশোয়ারের ওপেনার কুশল মেন্ডিস তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের জন্য ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতে নেন।
ম্যাচের শুরুতে টস জিতে মুলতান সুলতানসের অধিনায়ক অ্যাশটন টার্নার প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন। তবে তার এই সিদ্ধান্তকে ভুল প্রমাণ করতে খুব একটা সময় নেননি পেশোয়ারের ব্যাটাররা। ওপেনিং জুটিতেই তারা আক্রমণাত্মক শুরু করেন। বিশেষ করে কুশল মেন্ডিস এবং মোহাম্মদ হারিসের মারমুখী ব্যাটিং মুলতানের বোলারদের দিশেহারা করে দেয়। পাওয়ার প্লের সুবিধা কাজে লাগিয়ে পেশোয়ার বড় সংগ্রহের শক্ত ভিত তৈরি করে নেয়।
পেশোয়ার জালমির পক্ষে সর্বোচ্চ ৬৮ রানের ইনিংস খেলেন কুশল মেন্ডিস, যা তিনি মাত্র ৪০ বলে ৬টি চার ও ৩টি ছক্কার সাহায্যে সাজান। তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন মোহাম্মদ হারিস, যিনি মাত্র ১৭ বলে ৩৮ রানের একটি বিধ্বংসী ক্যামিও খেলেন। এছাড়া ফরহান ইউসুফ ২২ বলে ৩০ রান করেন এবং অধিনায়ক বাবর আজম ১৮ রান যোগ করেন। মুলতান সুলতানসের পক্ষে বল হাতে মোহাম্মদ ইসমাইল ৩ ওভারে ২২ রান দিয়ে ২ উইকেট এবং অভিজ্ঞ পিটার সিডল ৪ ওভারে ২৯ রান দিয়ে ২ উইকেট শিকার করেন।
১৯৭ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মুলতান সুলতানসের শুরুটা মন্দ ছিল না। ওপেনার জশ ফিলিপ ১৭ বলে ৩২ রানের একটি ঝোড়ো ইনিংস খেলে ভালো সূচনা এনে দেন। স্টিভ স্মিথও ধীরস্থিরভাবে ইনিংস গড়ার চেষ্টা করেন এবং ২৯ বলে ৩১ রান করেন। তবে মিডল অর্ডারে দ্রুত উইকেট পতনের কারণে তারা রানের গতির সাথে তাল মেলাতে হিমশিম খায়। অধিনায়ক অ্যাশটন টার্নার ১৩ বলে ২০ রান করে কিছুটা আশা দেখালেও বড় কোনো জুটি গড়তে ব্যর্থ হন মুলতানের ব্যাটাররা।
মুলতানের ব্যাটিং লাইনআপ ধসিয়ে দেওয়ার মূল কারিগর ছিলেন স্পিনার সুফিয়ান মুকিম। তিনি ৪ ওভার বল করে মাত্র ২৮ রান খরচায় ৩টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নিয়ে প্রতিপক্ষের মেরুদণ্ড ভেঙে দেন। তাকে যোগ্য সহায়তা দেন ইফতিখার আহমেদ, যিনি ৩ ওভারে ২৭ রান দিয়ে ১টি উইকেট নেন। নাহিদ রানাও নিয়ন্ত্রিত বোলিং করে মুলতানের ব্যাটারদের চাপে রাখেন। শেষ দিকে শান মাসুদ ১২ বলে ১৭ রান করে অপরাজিত থাকলেও তা জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না।
শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ৮ উইকেটে ১৭২ রানে থামে মুলতান সুলতানসের ইনিংস। ২৪ রানের এই জয়ে পেশোয়ার জালমি টুর্নামেন্টে তাদের আধিপত্য বজায় রাখল। এই ম্যাচটি মূলত পেশোয়ারের শক্তিশালী টপ অর্ডার ব্যাটিং এবং সুফিয়ান মুকিমের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের প্রদর্শনী ছিল। অন্যদিকে, মুলতান সুলতানসকে তাদের বোলিং এবং মিডল অর্ডার ব্যাটিং নিয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগ করে দিল এই পরাজয়।
