রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আম্মার অভিযোগ করেছেন, শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে অন্তর্বর্তী সরকার থেকে বর্তমান সরকার পর্যন্ত রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
শুক্রবার জুমার নামাজের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইনকিলাব মঞ্চ আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন। হাদি হত্যাকাণ্ডের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, অভিযুক্তদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার নিশ্চিত করার দাবিতে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
আম্মার বলেন, দেশে যখনই কোনো বড় সংকট তৈরি হয়—যেমন দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, দুর্ঘটনা বা অন্যান্য আলোচিত ঘটনা—তখনই হাদি হত্যার বিচার প্রসঙ্গ সামনে আনা হয়। তার দাবি, বিষয়টি রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে রাজু ভাস্কর্যে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়।
সমাবেশে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য জি এ সাব্বির বলেন, গত সপ্তাহে তারা সরকারের কাছে বিচার প্রক্রিয়া সম্পর্কে সুস্পষ্ট রূপরেখা দেওয়ার জন্য এক সপ্তাহ সময় বেঁধে দিয়েছিলেন। তবে এখনো কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা বা অগ্রগতির তথ্য জানানো হয়নি।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্পষ্ট অবস্থান জানানো না হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট তদন্ত সংস্থাগুলোর কাছে জবাবদিহি দাবি করা হবে। প্রয়োজনে শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচিও পালন করা হবে।
বক্তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত, বিদেশে অবস্থানরত অভিযুক্তদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান এবং বিচার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।
উল্লেখ্য, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদি গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকায় সন্ত্রাসী হামলার শিকার হন। উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়ার পর ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান। মামলাটির তদন্ত বর্তমানে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) করছে। এখনো চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়নি।
