শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
Logo
×

৪৩ দিনেই সরকারের ঋণ ৪৩ হাজার কোটি টাকা

প্রথম সমাচার ডেস্ক ১১ এপ্রিল ২০২৬, ১১:০৭ অপরাহ্ন

দেশের ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আদায় না হওয়ায় সরকার চরম ব্যাংকঋণ নির্ভর হয়ে পড়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ৪৩ দিনেই ব্যাংক খাত থেকে প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকা ঋণ গ্রহণ করেছে। এই প্রবণতা দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

ঋণ গ্রহণের বর্তমান চিত্র

​তথ্য অনুযায়ী, ঋণের পরিমাণ অতীতের অনেক রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে:

  • স্বল্পমেয়াদী ঋণ: গত ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত মাত্র দেড় মাসে সরকার ৪১ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে।
  • ত্রৈমাসিক চিত্র: গত তিন মাসে (জানুয়ারি-মার্চ) মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫৬ হাজার কোটি টাকা।
  • বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রা: ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। অথচ অর্থবছরের মাত্র ৯ মাসেই এই ঋণ ১ লাখ ৯ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে।

​১. রাজস্ব ঘাটতি: চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে রাজস্ব আদায়ে প্রায় সাড় ৭১ হাজার কোটি টাকার বিশাল ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

২. ভর্তুকি ও ব্যয় বৃদ্ধি: জ্বালানি তেলের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে বাড়লেও জনস্বার্থে ভর্তুকি অব্যাহত রাখতে হচ্ছে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার ফলে সরকারি ব্যয় আরও বেড়েছে।

৩. অর্থনৈতিক স্থবিরতা: দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সংস্কারের অভাবে বিনিয়োগ কমে গেছে, যার ফলে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ও কর আহরণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

​অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী নেতাদের মতে, সরকারের এই আগ্রাসী ঋণ গ্রহণের ফলে নিম্নলিখিত সমস্যাগুলো প্রকট হতে পারে:

  • বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ হ্রাস: সরকার ব্যাংক থেকে বেশি টাকা নিয়ে নিলে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের জন্য ঋণের সুযোগ কমে যায় (Crowding out effect), যা শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান বাধাগ্রস্ত করে।
  • মূল্যস্ফীতি: ব্যাংক থেকে অতিরিক্ত টাকা ছাপানো বা ঋণ নেওয়ার ফলে বাজারে মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি পেয়ে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যেতে পারে।
  • সুদের হার বৃদ্ধি: ঋণের চাহিদা বাড়লে ব্যাংকগুলোতে সুদের হার বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, যা ব্যবসার খরচ বাড়িয়ে দেয়।

​ব্যবসায়ী সংগঠন (যেমন: ডিসিসিআই, বিজিএমইএ) এবং অর্থনীতিবিদদের মতে, এই সংকট থেকে উত্তরণে সরকারকে কিছু জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে:

  • ​রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধিতে কঠোর সংস্কার ও তদারকি প্রয়োজন।
  • ​সরকারি ব্যয় সংকোচন এবং অনুৎপাদনশীল খাতে বরাদ্দ কমানো।
  • ​বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।
  • ​ঋণের টাকা যেন কেবল উৎপাদনশীল ও রপ্তানিমুখী খাতে ব্যবহৃত হয় তা নিশ্চিত করা।

​বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে একটি সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। ঋণের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব সম্পদ ও রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি না করলে দীর্ঘমেয়াদে দেশ ‘ঋণের ফাঁদে’ পড়ার ঝুঁকিতে থাকবে। টেকসই উন্নয়নের জন্য বেসরকারি খাতকে প্রধান্য দিয়ে অর্থনৈতিক সংস্কার ত্বরান্বিত করা এখন সময়ের দাবি।

শেয়ার করুন:
লিঙ্ক কপি হয়েছে
Loading
আরও নিউজ লোড হচ্ছে...