বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম এর অন্যতম ও বড় শাখা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শাখার কর্ণফুলী টিমের আয়োজনে গত ১০ এপ্রিল রোজ শুক্রবার চট্টগ্রামের এম.এ আজিজ স্টেডিয়াম প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত বইমেলা পরিদর্শনও সাহিত্য আড্ডা সম্পন্ন হয়েছে।
আমি বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক প্রচার সম্পাদক হিসেবে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উক্ত আয়োজনে অংশগ্রহণ করেছি। শুক্রবার বিকেলে বাসা থেকে সরাসরি বইমেলা প্রাঙ্গনে গিয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি হুমাইরা খানম জেরিন ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ৮টি টিমের মধ্যে অন্যতম কর্ণফুলী টিম এর টিম লিডার ও কমিটির অর্থ সম্পাদক কাজী মালিহা আক্তার, প্রচার সম্পাদক তানজিনা আক্তার চৈতি, কার্যনির্বাহী সদস্য ও কর্ণফুলী টিমের উপ টিম লিডার তাসনিয়া তাবাচ্ছুম, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি ও বর্তমান উপদেষ্টা মোহাম্মদ রায়হান উদ্দিন সিদ্দিকী, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ রাকিব সহ সবার সাথে সাক্ষাত ও শুভেচ্ছা বিনিময় হয়। ফোরামের সিনিয়র সদস্য ও সাবেক কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক হিসেবে আমার প্রতি তাদের আন্তরিকতায় বরাবরের প্রতিই মুগ্ধ হয়েছি।
বইমেলা পরিদর্শন ও ফটোসেশন শেষে সাহিত্য আড্ডার জন্য উপযুক্ত স্থান নির্বাচন করতে গিয়ে শুক্রবার মেলা উপলক্ষে কোলাহলপূর্ণ পরিবেশের মাঝে হঠাৎ আমিই তাদের প্রস্তাব করি এম.এ আজিজ স্টেডিয়ামের ভিআইপি গ্যালারীতে বসে প্রোগ্রাম সম্পন্ন করার জন্য। যেহেতু স্টেডিয়ামের প্রশাসনিক ভবন ও মূল ফটক তখন খোলা ছিলো, ভিআইপি গ্যালারিতে বসে সাহিত্য আড্ডা সম্পন্ন করার জন্য ভালো জায়গা হিসেবে আমরা সবাই সেখানে প্রবেশ করলাম।
উল্লেখ করা প্রয়োজন, এম.এ আজিজ স্টেডিয়ামে বর্তমানে জাতীয় দল বা আইসিসি স্বীকৃত লিষ্ট এ, প্রথম শ্রেণী বা টি২০ ম্যাচ না হলেও পূর্বে এখানে অনেক আন্তর্জাতিক ম্যাচ হয়েছে। এটি একটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ভেন্যু। চট্টগ্রামের সাগরিকায় অবস্থিত স্টেডিয়াম চালুর পূর্বে এম.এ আজিজ স্টেডিয়ামেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট হতো। এখানে ভারত, সাউথ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড, ইংল্যান্ড, উইন্ডিজ ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মোট ৮টি টেস্ট খেলেছে বাংলাদেশ। ২০০৫ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ঐতিহাসিক টেস্ট সিরিজ জয়ের একমাত্র জয়টি এই স্টেডিয়ামেই এসেছে। এখানে ১০টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। টেস্টের মতো একমাত্র জয়ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। ২০০৫ সালে সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ হয় এই মাঠে। তাই এটি স্মৃতিবিজরিত একটি স্টেডিয়ামে। সবাইকে নিয়ে এখানে বসে সামনে পুরো মাঠ রেখে ভিআইপি গ্যারালিতে বসে আড্ডা দিতে পারা দারুণ অনুভূতি ছিলো।
সাহিত্য আড্ডার উপস্থাপনায় ছিলেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শাখার অর্থ সম্পাদক ও কর্ণফুলী টিম লিডার কাজী মালিহা আক্তার। মালিহার উপস্থানায় আড্ডার শুরুতেই পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন সদস্য তানভীর আহমেদ। তৎপর সদস্য সহ উপস্থিত সকলের পরিচয় বিনিময় করা হয়। সবার উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি ও বর্তমান উপদেষ্টা মোহাম্মদ রায়হান উদ্দিন সিদ্দিকী, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ রাকিব। তাদের মাঝেই আমি সদস্যদের উদ্দেশ্যে কিছু কথা বলি। আমি বর্তমানে চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে লেখা তৈরীর কুফল ও অনুচিত বিষয়ে আলোচনা করে সবাইকে চ্যাটজিপিটি ব্যবহার না করার পরামর্শ রেখেছি। নতুন সদস্যদের লেখা প্রকাশ বিষয়ে কথা বলেছি। আড্ডার মাঝেই সঙ্গীত পরিবেশ করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শাখার প্রচার সম্পাদক তানজিনা আক্তার চৈতি।
সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসায় স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষের নিয়ম অনুযায়ী গ্যালারি ছাড়তে হবে বিধায় সাহিত্য আড্ডা সম্পন্ন করে আমরা সান্ধ্যকালীন নাস্তা করার জন্য কাজীর দেওরী খাজা রেস্টেুরেন্টে গমনের প্রস্তুতি নেই।
উক্ত প্রোগ্রাম উপলক্ষে বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক মিছবাহ উদ্দিন মিহির কিছুটা বিলম্বে আমাদের সাথে যুক্ত হন। মিহিরের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করে আমরা খাজা রেস্টেুরেন্টে আমরা সান্ধ্যকালীন নাস্তা সম্পন্ন করে গুরুত্বপূর্ণ কাজ থাকায় আমি সবার আগে বিদায় নেই।
সাবেক সদস্য ও কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক হিসেবে আমার মূল্যায়ণ-
আমি কুমিল্লা জেলার বাসিন্দা হলেও চট্টগ্রাম শহরে বসবাস করি দীর্ঘদিন যাবত। বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির দায়িত্ব পালন শেষে সাবেক হওয়ার পর নিজস্ব লেখালেখি ব্যতীত ফোরামের কোন কার্যক্রমে সঙ্গত কারনেই নিজ উদ্যোগে যুক্ত হওয়ার সুযোগ ছিলো না। তবে চট্টগ্রাম শহরে থাকি বিধায় ছোট বোনের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা উপলক্ষে চবিতে গমন করায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার দায়িত্বশীলদের সাথে চবি ক্যাম্পাসে প্রানবন্ত আড্ডা হয়েছিল একদিন। তাদের আথিয়েতায় মুগ্ধ হয়েছিলাম। এছাড়া জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শাখার চট্টগ্রাম কেন্দ্রিক প্রত্যেকটি প্রোগ্রামেই আমাকে অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়। আমি তাদের বেশ কয়েকটি প্রোগ্রামে উপস্থিত হয়েছি। সেখানে আমি আমার অভিজ্ঞতা শেয়ার করার চেষ্টা করেছি। সাবেক দায়িত্বশীলদের প্রতি তাদের আন্তরিকতা আমাকে মুগ্ধ করেছে। তাদের মাসিক সাহিত্য আড্ডা, পিঠা উৎসব সহ সর্বশেষ বইমেলা পরিদর্শন ও সাহিত্য আড্ডা প্রোগ্রামে উপস্থিত থাকতে পেরে অনেক ভালো লেগেছে। ভবিষ্যতেও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শাখার কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ হবে আশা রাখছি।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরামের সর্ববৃহৎ শাখা। অন্যান্য প্রত্যেকটি শাখা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক, ঢাকা কলেজ শাখা আছে। আছে বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় শাখাও। তবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় দেশব্যাপী বিস্তৃত বিধায় প্রত্যেকটি জেলায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্য আছে। যেহেতু এই শাখা দেশব্যাপী বিস্তৃত সেহেতু সুচারুরূপে দায়িত্ব পালনের জন্য এবং কেন্দ্রীয় দায়িত্বপ্রাপ্তদের উপর চাপ কমানোর জন্য ৮টি বিভাগীয় শহরকে আলাদা করে ৮টি টিম করা হয়েছে, সেইসব টিমে একজন করে টিম লিডার এবং উপ টিম লিডার আছে, যাহা নিজ নিজ টিমের কার্যক্রম পরিচালনা করেন অর্থাৎ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা হলো বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরামের মধ্যে আরেকটি ফোরাম, যার কার্যক্রম মূল ফোরামের মতোই দেশব্যাপী বিস্তৃত। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সহ বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরামের প্রত্যেকটি শাখা ও সদস্যদের সফলতা ও কল্যাণ কামনা করছি।
লেখক-
জুবায়ের আহমেদ
সাবেক কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক
ও সভাপতি, বৃহত্তর চট্টগ্রাম শাখা
বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম
