চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর গেইট এলাকায় অটোরিকশা ভাড়াকে কেন্দ্র করে মেরিন সায়েন্সেস বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের এক শিক্ষার্থীকে গুরুতর আহত করার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস।
ভাড়ার অতিরিক্ত টাকা দাবি করার প্রতিবাদ করায় সিএনজি চালকদের সংঘবদ্ধ হামলায় ওই শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাৎক্ষণিকভাবে ১ নম্বর গেইট সংলগ্ন প্রধান সড়ক অবরোধ করেন। এই অবরোধের ফলে দীর্ঘ সময় যান চলাচল বন্ধ থাকে এবং ক্যাম্পাসের প্রবেশপথে স্থবিরতা নেমে আসে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনায় বসেন এবং তাদের উত্থাপিত যৌক্তিক দাবিগুলো মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেন।
উপাচার্যের সাথে আলোচনার প্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীরা তিনটি প্রধান শর্তে তাদের আন্দোলন স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেন। গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, হামলাকারী চালককে আজ রাতের মধ্যেই গ্রেফতার করার বিষয়ে প্রশাসন প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং অপরাধী ধরা না পড়া পর্যন্ত ১ নম্বর গেইট থেকে জিরো পয়েন্ট রুটে সকল প্রকার সিএনজি অটোরিকশা চলাচল বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে উক্ত রুটে বিকল্প হিসেবে চারটি চক্রাকার বাস চালুর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবি ও নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে আগামী সাত দিনের মধ্যে ১ নম্বর গেইট এলাকায় একটি স্থায়ী পুলিশ বক্স স্থাপনের বিষয়েও প্রশাসন একমত পোষণ করেছে।
প্রশাসনের এই আশ্বাসের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীরা আপাতত সড়ক উন্মুক্ত করে দিলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন যে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থাৎ আজ রাতের মধ্যে মূল অপরাধীকে গ্রেফতার করা না হলে আগামীকাল সকাল থেকে পুনরায় কঠোরভাবে সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হবে।
সাধারণ শিক্ষার্থীরা এই ন্যক্কারজনক হামলার সুষ্ঠু বিচার এবং ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের পথে পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় ও স্থানীয় প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন।
