বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) দেশের ক্রিকেটে নেতৃত্ব দেওয়া কিংবদন্তিদের যথাযথ মূল্যায়ন ও সম্মান প্রদর্শনের লক্ষ্যে ‘ক্যাপ্টেনস কার্ড’ (Captains Card) নামে একটি বিশেষ প্রিভিলেজ কার্ড প্রকল্প চালু করেছে। ১৬ এপ্রিল, ২০২৬ তারিখে মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালের হাত ধরে এই ঐতিহাসিক প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। এই উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশ জাতীয় দলের হয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অধিনায়কত্ব করা ক্রিকেটারদের আজীবন বিশেষ মর্যাদা ও নাগরিক সুবিধা প্রদানের নিশ্চয়তা দিচ্ছে বিসিবি।
এই কার্ডটি মূলত সেই সকল পুরুষ ও নারী ক্রিকেটারদের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে, যারা অন্তত একটি আন্তর্জাতিক ম্যাচে বাংলাদেশের নেতৃত্ব দিয়েছেন। ১৯৭৭ সালে এমসিসি দলের বিপক্ষে মাহরুফ শরীফ কবিরের হাত ধরে যে অধিনায়কত্বের যাত্রা শুরু হয়েছিল, সেখান থেকে শুরু করে বর্তমান সময়ের নাজমুল হোসেন শান্ত বা জাকের আলী অনিক পর্যন্ত মোট ২৭ জন পুরুষ এবং ৫ জন নারী অধিনায়ককে এই বিশেষ সম্মাননার আওতায় আনা হয়েছে। এটি কেবল একটি প্লাস্টিকের কার্ড নয়, বরং এটি দেশের ক্রিকেটের প্রতি তাঁদের আজীবন ত্যাগের এক প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি।
ক্যাপ্টেনস কার্ডধারী এই অধিনায়করা এখন থেকে বেশ কিছু বিশেষ ও ভিআইপি সুবিধা ভোগ করবেন। এই কার্ডের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো আজীবন স্টেডিয়াম অ্যাক্সেস। কার্ডধারী ব্যক্তিরা বাংলাদেশের যেকোনো ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ম্যাচ (দ্বিপাক্ষিক সিরিজ, আইসিসি বা এসিসি ইভেন্ট) এবং বিপিএলের খেলাগুলো বিনা টিকিটে সপরিবারে দেখার সুযোগ পাবেন। টিকিট সংগ্রহের প্রচলিত ঝক্কি এড়িয়ে সরাসরি ভিভিআইপি জোনে প্রবেশের পাশাপাশি তাঁদের জন্য স্টেডিয়ামের ভেতরে সংরক্ষিত কার পার্কিংয়ের সুবিধাও নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া অধিনায়কদের দীর্ঘমেয়াদী সুস্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে বিসিবি তাঁদের আজীবন বিমা সুবিধা ও মানসম্মত চিকিৎসা সেবা প্রদানের ঘোষণা দিয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাবেক অধিনায়ক আকরাম খান, হাবিবুল বাশার ও মোহাম্মদ আশরাফুলের মতো ক্রিকেটাররা উপস্থিত হয়ে বিসিবির এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করেছেন যে, সাবেক খেলোয়াড়দের বোর্ডে নিয়মিত আসা-যাওয়া এবং মাঠে বসে খেলা দেখার পরিবেশ তৈরি করতেই এই পদক্ষেপ। এই কার্ডের মাধ্যমে বিসিবি কেবল বর্তমানকে নয়, বরং দেশের ক্রিকেটের ইতিহাস ও ঐতিহ্যকেও সস্মানে আগলে রাখার চেষ্টা করছে। আগামী দিনে এই কার্ডের সুবিধার পরিধি আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে বোর্ডের, যা নতুন প্রজন্মের ক্রিকেটারদের মধ্যেও নেতৃত্বের প্রতি আগ্রহ ও অনুপ্রেরণা সৃষ্টি করবে।
