আইপিএল ২০২৬-এর ৩০তম ম্যাচে আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয়েছিল মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স ও গুজরাট টাইটান্স। এই লড়াইয়ে স্বাগতিক গুজরাট টাইটান্সকে ৯৯ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করেছে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। হার্দিক পান্ডিয়ার দলের এই জয়ে প্রধান নায়ক ছিলেন তরুণ ব্যাটার তিলক ভার্মা, যিনি বিধ্বংসী শতরান করে ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন।
ম্যাচের শুরুতে টস জিতে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সকে ব্যাটিংয়ে পাঠান গুজরাট অধিনায়ক শুভমান গিল। তবে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা খুব একটা ভালো হয়নি মুম্বাইয়ের; পাওয়ার প্লে-র মধ্যেই ৪৪ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে তারা। ওপেনার কুইন্টন ডি কক (১৩) ও সূর্যকুমার যাদব (১৫) দ্রুত সাজঘরে ফেরেন। তবে মিডল অর্ডারে নামান ধীর এবং তিলক ভার্মা হাল ধরেন। নামান ধীর ৩২ বলে ৪৫ রানের একটি কার্যকরী ইনিংস খেলেন, যেখানে ছিল ৬টি চার ও ১টি ছক্কার মার। অন্যদিকে তিলক ভার্মা প্রথম দিকে কিছুটা সময় নিলেও পরে চড়াও হন গুজরাট বোলারদের ওপর।
তিলক ভার্মার ব্যাটিং তান্ডবে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৯৯ রানের পাহাড় গড়ে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। তিলক মাত্র ৪৫ বলে ১০১ রানের এক অপরাজিত মহাকাব্যিক ইনিংস খেলেন, যাতে ছিল ৮টি চার ও ৭টি ছক্কা। এটি মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের ইতিহাসে অন্যতম দ্রুততম সেঞ্চুরি। গুজরাটের পক্ষে বল হাতে সফল ছিলেন কাগিসো রাবাদা, যিনি ৪ ওভারে ৩৩ রান দিয়ে ৩টি উইকেট শিকার করেন। এছাড়া মোহাম্মদ সিরাজ ১টি উইকেট লাভ করেন।
২০০ রানের বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে গুজরাট টাইটান্সের ব্যাটিং লাইনআপ। ইনিংসের প্রথম বলেই সাই সুদর্শনকে (০) ফিরিয়ে মুম্বাইকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন জাসপ্রিত বুমরাহ। অধিনায়ক শুভমান গিল ১৩ বলে ১৪ রান করে আউট হওয়ার পর আর কেউ বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। ওয়াশিংটন সুন্দর ১৭ বলে ২৬ এবং শাহরুখ খান ১৭ রান করলেও তা জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে ১৫.৫ ওভারে মাত্র ১০০ রানেই গুটিয়ে যায় গুজরাট।
মুম্বাইয়ের এই অভাবনীয় জয়ের কারিগর ছিল তাদের বোলিং বিভাগ। বিশেষ করে আশওয়ানি কুমার ৪ ওভারে মাত্র ২৪ রান খরচ করে ৪টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নিয়ে গুজরাটের মেরুদণ্ড ভেঙে দেন। তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন মিচেল স্যান্টনার ও আল্লাহ গজানফর, যারা প্রত্যেকেই ২টি করে উইকেট নেন। স্যান্টনার ৩ ওভারে দেন মাত্র ১৬ রান। বুমরাহ এবং হার্দিক পান্ডিয়াও ১টি করে উইকেট নিয়ে দলের বিশাল জয় নিশ্চিত করেন। এই জয়ের মাধ্যমে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স তাদের টানা চার হারের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে স্বস্তির দেখা পেল।
