২০২৬ পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) ৩২তম ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল করাচি কিংস এবং পেশোয়ার জালমি। লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে করাচি কিংসকে ৭ উইকেটে পরাজিত করেছে পেশোয়ার জালমি। টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেয় করাচি কিংস, কিন্তু নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৮২ রান সংগ্রহ করতে সক্ষম হয় তারা। জবাবে ১৮.৫ ওভারেই ৩ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় বাবর আজমের পেশোয়ার জালমি। অসামান্য ব্যাটিং পারফরম্যান্সের জন্য ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন পেশোয়ারের কুশল মেন্ডিস।
ম্যাচের শুরুতে করাচি কিংসের অধিনায়ক টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সাহসী সিদ্ধান্ত নেন। ওপেনার জেসন রয় শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিলেন। তিনি ৫১ বলে ৮৫ রানের একটি বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন, যাতে ছিল ১১টি চার ও ২টি ছক্কার মার। তাকে সঙ্গ দিতে আসা ডেভিড ওয়ার্নার অবশ্য খুব একটা সুবিধা করতে পারেননি, মাত্র ১১ রান করে তিনি সাজঘরে ফেরেন। মিডল অর্ডারে আজম খান ১৯ বলে ৩৫ রানের একটি ক্যামিও ইনিংস খেলে দলের রান বড় করতে সহায়তা করেন। তবে শেষ দিকে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানোয় বড় সংগ্রহের ভিত পেলেও ১৮২ রানেই থামতে হয় করাচিকে।
পেশোয়ার জালমির বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন আলী রাজা। তিনি তার ৪ ওভারের কোটায় ৪১ রান খরচ করলেও গুরুত্বপূর্ণ ৪টি উইকেট শিকার করে করাচির রানের গতিতে লাগাম টানেন। এছাড়া অ্যারন হার্ডি এবং মোহাম্মদ বাসিত আলী একটি করে উইকেট নিয়ে দারুণ কিপটে বোলিং করেন। করাচি কিংসের টপ অর্ডারকে চেপে ধরার পেছনে আলী রাজার এই স্পেলটি ছিল ম্যাচের অন্যতম টার্নিং পয়েন্ট, যা করাচিকে ২০০ রানের নিচে আটকে রাখতে সাহায্য করে।
১৮৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পেশোয়ার জালমি শুরু থেকেই সাবলীল ব্যাটিং করতে থাকে। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ছিলেন কুশল মেন্ডিস। তিনি মাত্র ৪৩ বলে ৮০ রানের এক অপরাজিত ইনিংস খেলেন, যেখানে ৪টি ছক্কা ও ৫টি চারের মার ছিল। ওপেনার ফারহান ইউসুফও দারুণ ফর্মে ছিলেন; তিনি ৩৬ বলে ৫টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৫৮ রান করে দলের জয় প্রায় নিশ্চিত করে দেন। অধিনায়ক বাবর আজম ১৯ বলে ২৫ রান করে ভালো শুরু দিলেও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। তবে মেন্ডিস ও ফারহানের দায়িত্বশীল ব্যাটিং পেশোয়ারকে সহজ জয় এনে দেয়।
করাচি কিংসের বোলাররা পেশোয়ারের ব্যাটারদের ওপর খুব একটা চাপ তৈরি করতে পারেননি। জাহিদ মাহমুদ ৪ ওভারে ২৬ রান দিয়ে কিছুটা নিয়ন্ত্রিত বোলিং করলেও কোনো উইকেটের দেখা পাননি। হাসান আলী এবং আব্বাস আফ্রিদি ১টি করে উইকেট পেলেও তারা ছিলেন বেশ ব্যয়বহুল; হাসান আলী ৩.৫ ওভারে ৫২ রান খরচ করেন। শেষ পর্যন্ত ৭ বল হাতে রেখেই ৩ উইকেটের বিনিময়ে ১৮৬ রান তুলে নেয় পেশোয়ার জালমি। এই জয়ের মাধ্যমে পয়েন্ট টেবিলে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করল বাবর আজমের দল।
