আসন্ন সীমিত ওভারের সিরিজ খেলতে ইতিমধ্যেই ঢাকায় এসে পৌঁছেছে শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল। তবে বাংলাদেশে পা রাখলেও মাঠের লড়াই শুরু হওয়ার আগেই বড় ধাক্কা খেয়েছে অজি শিবির। সফরকারী দলটির অন্যতম প্রধান দুই তারকা—বিধ্বংসী বাঁহাতি ওপেনার ট্রাভিস হেড এবং নিয়মিত ওয়ানডে অধিনায়ক মিচেল মার্শকে এই সিরিজে সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে পাচ্ছে না অস্ট্রেলিয়া। তাদের পাশাপাশি তরুণ লেগ স্পিনার তানভীর সাংঘাও ছিটকে গেছেন এই সফর থেকে।
এবারের বাংলাদেশ সফরে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি—উভয় সংস্করণের দলেই রাখা হয়েছিল তারকা ব্যাটার ট্রাভিস হেডকে। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) শেষ করে কিছুটা বিশ্রাম নিয়ে সরাসরি ঢাকায় দলের সঙ্গে যোগ দেওয়ার কথা ছিল তাঁর। তবে শেষ মুহূর্তে সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত কারণে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ) থেকে ছুটি নিয়েছেন তিনি। ফলে এই সীমিত ওভারের সিরিজে অজিদের হয়ে হেডের মাঠে নামা হচ্ছে না, যা সফরকারীদের ব্যাটিং লাইনআপের শক্তি কিছুটা হলেও কমিয়ে দেবে।
হেডের ছিটকে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাচক টনি ডোডেমাইড জানিয়েছেন, ব্যক্তিগত কারণে ছুটি দেওয়ায় হেডকে এই সফরে দেখা যাবে না। তবে আগামী আগস্ট মাসে ঘরের মাঠে বাংলাদেশের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার যে টেস্ট সিরিজ রয়েছে, সেখানে তিনি আবার দলে ফিরবেন বলে নির্বাচকরা আশাবাদী। হেডের অনুপস্থিতিতে অজিদের টপ অর্ডারে নতুন কাউকে বড় দায়িত্ব নিতে হবে।
অন্যদিকে, আইপিএল চলাকালীন গোড়ালির চোটে পড়েছিলেন অলরাউন্ডার মিচেল মার্শ। সেই চোট পুরোপুরি সেরে না ওঠায় ওয়ানডে সিরিজ থেকে ছিটকে গেছেন এই অধিনায়ক। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল, বাংলাদেশ সফরের পুরো ছয়টি ম্যাচেই তিনি দলকে নেতৃত্ব দেবেন। তবে চিকিৎসকদের পরামর্শে ওয়ানডে সিরিজে বিশ্রামে থাকবেন তিনি। অবশ্য অজি ক্রিকেট ভক্তদের জন্য স্বস্তির খবর হলো, মার্শ পুরোপুরি ফিট হয়ে ওয়ানডে সিরিজের পর শুরু হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি সিরিজে অংশ নেবেন এবং দলের সাথে যোগ দিয়ে প্রস্তুতি শুরু করবেন।
প্রধান দুই তারকার এমন অনুপস্থিতি স্বাগতিক বাংলাদেশ দলের জন্য এক বড় সুযোগ তৈরি করতে পারে। ঘরের মাঠে চেনা কন্ডিশনে অস্ট্রেলিয়ার মতো পরাশক্তিকে বাগে পাওয়ার ক্ষেত্রে অজিদের এই অভ্যন্তরীণ ধাক্কা লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোগাবে। এখন দেখার বিষয়, হেডের অনুপস্থিতি এবং ওয়ানডেতে মার্শের নেতৃত্ব ছাড়া অজিরা কীভাবে বাংলাদেশের মাটিকে নিজেদের মেলে ধরে এবং টাইগাররা এই সুযোগ কতটা কাজে লাগাতে পারে।
