প্রাথমিক শিক্ষায় সংগীত, নৃত্য ও নাট্যকলাকে বাধ্যতামূলকভাবে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ বাতিলের দাবি জানিয়েছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ। একই সঙ্গে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের বিষয়ে সরকারের পূর্বঘোষিত আশ্বাস ও নির্বাচনী অঙ্গীকার দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে দলটি।
শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে রাজধানীর পুরানা পল্টনে জমিয়তের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের মজলিসে আমেলার বৈঠকে এসব দাবি তুলে ধরেন সংগঠনের নেতারা। বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জমিয়তের মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা এমন হওয়া উচিত যা শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, চারিত্রিক উৎকর্ষ, দেশপ্রেম, মানবিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধে সমৃদ্ধ করে। তার দাবি, প্রাথমিক স্তরের শিশুদের জন্য সংগীত, নৃত্য ও নাট্যকলাকে বাধ্যতামূলক করা দেশের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
বৈঠকে নেতারা বলেন, শিক্ষা কারিকুলামে এমন কোনো বিষয় বাধ্যতামূলক করা উচিত নয়, যা দেশের একটি বড় জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় বিশ্বাস ও মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে বিবেচিত হতে পারে। এর পরিবর্তে কোরআন শিক্ষা, নৈতিক শিক্ষা, চরিত্র গঠন, বিজ্ঞানমনস্কতা, তথ্যপ্রযুক্তি জ্ঞান, ভাষা দক্ষতা এবং দেশীয় ইতিহাস-ঐতিহ্যের ওপর গুরুত্বারোপ করা প্রয়োজন।
বক্তারা আরও বলেন, শিক্ষা নীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে জনগণের ধর্মীয় অনুভূতি, পারিবারিক মূল্যবোধ ও দেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা উচিত। তারা প্রাথমিক শিক্ষায় সংগীত, নৃত্য ও নাট্যকলার বাধ্যতামূলক অন্তর্ভুক্তির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার পাশাপাশি শিক্ষাবিদ, আলেম-উলামা, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে পরামর্শের ভিত্তিতে গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান।
বৈঠকে মহানগর দক্ষিণের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মুফতি মাহবুবুল আলম সভাপতিত্ব করেন এবং সাধারণ সম্পাদক মুফতি বশীরুল হাসান খাদিমানী অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। এ সময় সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
