২০২২ সালের কাতার ফুটবল বিশ্বকাপে ব্যয় হয়েছিল ২২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। অথচ জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির নির্বাহী পরিচালক ডেভিড বিসলির হিসাব বলছে, মাত্র ৪০ বিলিয়ন ডলার হলেই প্রতি বছর পৃথিবীর ৮২ কোটি ৮০ লাখ ক্ষুধার্ত মানুষের খাদ্যচাহিদা মেটানো সম্ভব।
অর্থাৎ বিশ্বকাপে যে অর্থ ঢালা হয়েছে, তার মাত্র পাঁচ ভাগের এক ভাগ দিয়ে গোটা পৃথিবীর ক্ষুধার্ত মানুষদের মুখে অন্ন তুলে দেওয়া যেত।
একদিকে কোটি কোটি মানুষের পেটে ক্ষুধার আগুন, অন্যদিকে একটি খেলাকে কেন্দ্র করে পৃথিবীজুড়ে চলছে অভূতপূর্ব উন্মাদনা। এই বৈপরীত্য নিয়ে ইসলামি চিন্তাবিদ শায়েখ আহমদুল্লাহ প্রশ্ন তুলেছেন মানবজাতির মর্যাদাবোধ নিয়ে। তাঁর মতে, এই উন্মাদনা প্রমাণ করে যে মনুষ্যত্বের মর্যাদা আমরা অনেক আগেই হারিয়ে ফেলেছি এবং পৃথিবীজুড়ে এখন কেবলই মনুষ্যত্ব-বিবর্জিত ‘খোলস-মানুষের’ বসবাস।
শুধু নৈতিক প্রশ্নই নয়, ফুটবল বিশ্বকাপের এই উন্মাদনায় বিশ্বের কর্পোরেট দুনিয়াও ব্যাপক অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়ছে। মানবসম্পদ, বেতন ও কর্মী ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক এআই প্ল্যাটফর্ম ‘ইউকেজি’ এক জরিপে দেখিয়েছে, চলমান বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে বৈশ্বিক কর্পোরেট খাতে প্রায় দুই লাখ কোটি টাকার ক্ষতি হতে পারে।
জরিপের তথ্য অনুযায়ী, ম্যাচের সময়সূচির সঙ্গে মিল রেখে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৩৭ শতাংশ কর্মী তাদের কাজের রুটিন পরিবর্তনের পরিকল্পনা করছেন। আরও উদ্বেগজনক তথ্য হলো, ২৭ শতাংশ কর্মী সরাসরি স্বীকার করেছেন যে তারা দেরিতে অফিসে এসে আগেভাগে চলে যাওয়া কিংবা সম্পূর্ণ অনুপস্থিত থেকে কর্মদিবস ফাঁকি দিতে পারেন।
সামগ্রিকভাবে এই চিত্র এক গভীর সংকটের ইঙ্গিত দেয় — যেখানে মানুষের ক্ষুধা নিবারণের চেয়ে বিনোদনের উন্মাদনা আজ অনেক বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।
ফেইসবুক পোস্টে এসব কথা বলেন তিনি।
