২০২৬ সালের ১২ জুন যুক্তরাজ্যের ব্ল্যাকপুলের স্ট্যানলি পার্কে শুরু হওয়া কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপের ডিভিশন টু-এর ২৬তম ম্যাচে স্বাগতিক ল্যাঙ্কাশায়ার ক্রিকেট ক্লাবকে ১৪০ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করেছে কেন্ট কাউন্টি ক্রিকেট ক্লাব। ম্যাচের প্রথম ইনিংসে চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ের পর দ্বিতীয় ইনিংসে দারুণ লড়াই করলেও শেষ রক্ষা হয়নি ল্যাঙ্কাশায়ারের। কেন্টের হয়ে কাউন্টি ক্রিকেটে অভিষেকেই দুই ইনিংস মিলিয়ে ৯টি উইকেট (প্রথম ইনিংসে ৩টি ও দ্বিতীয় ইনিংসে ৬টি) শিকার করে ম্যাচের নায়ক ও ম্যাচসেরা হয়েছেন বাংলাদেশি ডানহাতি পেসার হাসান মাহমুদ।
ম্যাচের শুরুতে টস জিতে কেন্টকে প্রথমে ব্যাটিং করার আমন্ত্রণ জানান ল্যাঙ্কাশায়ারের অধিনায়ক কিটন জেনিংস। কন্ডিশনকে কাজে লাগিয়ে কেন্টকে শুরুতেই চেপে ধরে স্বাগতিক বোলাররা। ল্যাঙ্কাশায়ারের স্পিনার লিয়াম লিভিংস্টোনের ঘূর্ণি জাদুতে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে কেন্ট। কেন্টের পক্ষে ওপেনার বেন ডকিন্স ১১৮ বলে ৫৪ রান এবং ড্যানিয়েল বেল-ড্রুমন্ড ৩৩ রান করে কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন। শেষ পর্যন্ত লিভিংস্টোনের দুর্দান্ত ফাইফারের (৫/৫৫) সামনে প্রথম ইনিংসে ১৭৮ রানে অলআউট হয় কেন্ট। ল্যাঙ্কাশায়ারের পক্ষে কিংবদন্তি পেসার জেমস অ্যান্ডরসন ও টম বেইলি ২টি করে উইকেট নেন।
১৭৮ রানের জবাব দিতে নেমে কেন্টের বোলারদের তোপের মুখে পড়ে প্রথম ইনিংসে মাত্র ৮৭ রানেই গুটিয়ে যায় ল্যাঙ্কাশায়ার। স্বাগতিকদের পক্ষে বেন ম্যাকডারমট সর্বোচ্চ ২৩ রান এবং অধিনায়ক কিটন জেনিংস ১৩ রান করতে সমর্থ হন, বাকিদের কেউই দুই অঙ্কের কোটা ছুঁতে পারেননি। কেন্টের হয়ে মিডিয়াম পেসার কিথ ডাজিয়ন মাত্র ২১ রান খরচ করে একাই ৬টি উইকেট নিয়ে ধস নামান। এছাড়া কেন্টের জার্সিতে প্রথম ম্যাচ খেলতে নামা হাসান মাহমুদ ৩২ রানে ৩টি উইকেট নিয়ে ল্যাঙ্কাশায়ারকে ধ্বংস করতে বড় ভূমিকা পালন করেন, যার ফলে প্রথম ইনিংসেই ৯১ রানের লিড পায় কেন্ট।
দ্বিতীয় ইনিংসে বড় লক্ষ্য দেওয়ার উদ্দেশ্যে মাঠে নেমে কেন্টের ব্যাটাররা দুর্দান্ত ব্যাটিং প্রদর্শন করেন। টপ অর্ডারে হ্যারি ফিঞ্চ খেলেন ১৪৬ বলে ৮৩ রানের এক ধৈর্যশীল ইনিংস। তবে ইনিংসের মূল আকর্ষণ ছিলেন উইকেটরক্ষক-ব্যাটার ক্রিস বেঞ্জামিন, যিনি ল্যাঙ্কাশায়ারের বোলারদের ওপর তাণ্ডব চালিয়ে মাত্র ৮৫ বলে ৬টি চার ও ৫টি ছক্কার সাহায্যে ১০৩ রানের এক বিধ্বংসী অপরাজিত সেঞ্চুরি করেন। স্যাম নর্থকোটের ২৩ ও বেল-ড্রুমন্ডের ৩৪ রানের ওপর ভর করে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৩২ রান সংগ্রহ করে অলআউট হয় কেন্ট। ল্যাঙ্কাশায়ারের পক্ষে অ্যান্ডরসন ও জর্জ বালডারসন ৩টি করে উইকেট নেন।
ম্যাচ জিততে ল্যাঙ্কাশায়ারের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪২৪ রানের বিশাল পাহাড়। এই রান তাড়া করতে নেমে দ্বিতীয় ইনিংসে প্রতিরোধ গড়ে তোলে ল্যাঙ্কাশায়ার। দলের পক্ষে ওপেনার মার্কাস হ্যারিস ১৭৬ বলে ৭টি চারের সাহায্যে ৯১ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলেন। এছাড়া লঙ্কান বংশোদ্ভূত ও লঙ্কান কাউন্টি ব্যাটারদের ব্যর্থতার দিনে অধিনায়ক কিটন জেনিংস ১২০ বলে ৬১ রান এবং লিয়াম লিভিংস্টোন ৪৭ রান করে লড়াই চালিয়ে যান। তবে ল্যাঙ্কাশায়ারের এই লড়াইকে একা হাতে থামিয়ে দেন বাংলাদেশি পেসার হাসান মাহমুদ।
হাসান মাহমুদ তার দুর্দান্ত সুইং ও নিখুঁত লাইনে বোলিং করে ১৬ ওভারে ৬৯ রান দিয়ে একাই তুলে নেন ৬টি উইকেট, যা তার প্রথম শ্রেণীর ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা স্পেল। তার এই আগুনঝরা বোলিংয়ের সামনে শেষ পর্যন্ত ২৮৩ রানে অলআউট হয় ল্যাঙ্কাশায়ার, যার ফলে কেন্ট ১৪০ রানের বড় জয় নিশ্চিত করে। কেন্টের পক্ষে বার্টি ফোরম্যান ৬৬ রানে ২টি এবং ম্যাট পার্কিনসন ৮২ রানে ১টি উইকেট নিয়ে হাসানের ফাইফার উদযাপনে যোগ্য সঙ্গী হিসেবে অবদান রাখেন।
