২০২৬ সালের ১৪ জুন ফিফা বিশ্বকাপের ‘ই’ গ্রুপের ম্যাচে নবাগত কুরাসাওকে ৭-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করেছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি। যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কুরাসাওকে কোনো পাত্তাই দেয়নি ইউলিয়ান নাগলসম্যানের শিষ্যরা। শক্তির বিচারে বহুদূরে থাকা ক্যারিবীয় দ্বীপদেশটিকে গোলবন্যায় ভাসিয়ে টুর্নামেন্টে নিজেদের দুর্দান্ত শক্তির জানান দিল জার্মানরা। ম্যাচে মাঝমাঠ ও আক্রমণভাগে অনন্য নৈপুণ্য প্রদর্শন করে জোড়া গোল করা তারকা ফরোয়ার্ড কাই হাভার্টজ ম্যাচসেরা নির্বাচিত হয়েছেন।
ম্যাচের শুরুতে টস জিতে কোনো দলই প্রথাগত রক্ষণাত্মক কৌশলে যায়নি, তবে জার্মানি শুরু থেকেই তাদের আক্রমণভাগের ধার বাড়াতে থাকে। কন্ডিশন ও নিজেদের শক্তিমত্তাকে কাজে লাগিয়ে ম্যাচের মাত্র ৫ম মিনিটেই ফিলিক্স মেচার দুর্দান্ত এক গোলে এগিয়ে যায় জার্মানি। নবাগত দল হিসেবে কুরাসাও শুরুতেই পিছিয়ে পড়লেও তারা ম্যাচ থেকে ছিটকে যায়নি। উল্টো দারুণ এক কাউন্টার অ্যাটাক থেকে ম্যাচের ২০তম মিনিটে কুরাসাওয়ের লিভানো কোমেনেনসিয়া গোল করে স্টেডিয়ামে উপস্থিত হাজারো ‘ব্লু ওয়েভ’ সমর্থককে উল্লাসে ভাসান, যা ছিল বিশ্বকাপের মঞ্চে দেশটির ইতিহাসের প্রথম গোল।
কুরাসাওয়ের সমতায় ফেরার এই স্পর্ধা যেন জার্মানিকে আরও বেশি ক্ষিপ্ত করে তোলে। সমতা ভাঙতে মরিয়া জার্মানরা একের পর এক আক্রমণ শানাতে থাকে এবং ম্যাচের ৩৭তম মিনিটে ডিফেন্ডার নিকো শ্লোটারবেকের এক চমৎকার হেডে আবারো ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় তারা। প্রথমার্ধের খেলা শেষ হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে, যোগ করা সময়ে (৪৫+৪ মিনিটে) পেনাল্টি পায় জার্মানি। স্পট কিক থেকে অত্যন্ত নিখুঁত শটে গোল করে ব্যবধান ৩-১ করেন কাই হাভার্টজ, যা কুরাসাওকে ম্যাচ থেকে পুরোপুরি ছিটকে দেয়।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই জার্মানি আরও ভয়ংকর রূপ ধারণ করে এবং মাঠে নামার মাত্র ১ মিনিটের মাথায় (৪৬ মিনিটে) তরুণ উইঙ্গার জামাল মুসিয়ালা গোল করে ব্যবধান ৪-১-এ নিয়ে যান। জার্মানির একের পর এক ঝড়ের সামনে কুরাসাওয়ের রক্ষণভাগ সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে। ম্যাচের ৬৭তম মিনিটে নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় গোলটি করেন নাথানিয়েল ব্রাউন। তার এই গোলের পর স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৫-১ এবং ধারাভাষ্যকারেরা বলতে শুরু করেন—চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা তাদের চিরচেনা চেনা রূপ ফিরে পেয়েছে।
ম্যাচের শেষ কোয়ার্টারেও জার্মানির গোলের ক্ষুধা কমেনি। বদলি হিসেবে নামা ডেনিজ উন্ডাভ ম্যাচের ৭৭তম মিনিটে কুরাসাওয়ের জালে দলের ষষ্ঠ গোলটি জড়ান। এরপর ম্যাচের ৮৭তম মিনিটে কাই হাভার্টজ নিজের দ্বিতীয় ও দলের পক্ষে সপ্তম গোলটি করলে হিউস্টনের স্টেডিয়ামে উপস্থিত দর্শকদের মনে পড়ে যায় এক যুগ আগের এক ঐতিহাসিক ম্যাচের কথা। ২০১৪ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আয়োজক ব্রাজিলকে যেভাবে ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত করেছিল জার্মানি, ঠিক একই স্কোরলাইনে ১২ বছর পর বিশ্বকাপে আরেকটি ম্যাচ শেষ করল তারা।
এই বিধ্বংসী জয়ের ফলে ৩ পয়েন্ট এবং +৬ গোল ব্যবধান নিয়ে ‘ই’ গ্রুপের শীর্ষস্থান দখল করেছে জার্মানি। অন্যদিকে বড় ব্যবধানে হারলেও চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের জালে একটি গোল করতে পারাটাই দেড় লক্ষ জনসংখ্যার দেশ কুরাসাওয়ের জন্য এক চিরস্মরণীয় ইতিহাস হয়ে থাকবে। নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে আগামী ১৯ জুন শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হবে জার্মানি, যেখানে তাদের লক্ষ্য থাকবে জয়ের এই ধারা বজায় রাখা; আর একই দিনে কুরাসাও মাঠে নামবে টুর্নামেন্টে তাদের প্রথম পয়েন্টের খোঁজে।
