লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ওয়ানডে ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে ৪ উইকেটে হারিয়েছে স্বাগতিক পাকিস্তান। এই রোমাঞ্চকর জয়ের মাধ্যমে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজটি ২-১ ব্যবধানে নিজেদের করে নিল পাকিস্তান। বল হাতে দুর্দান্ত পারফর্ম করে মাত্র ৩০ রানে ৩টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট শিকার করায় ম্যাচসেরা (প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ) নির্বাচিত হয়েছেন পাকিস্তানের তারকা পেসার শাহীন শাহ আফ্রিদি।
ম্যাচের শুরুতে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেয় সফরকারী অস্ট্রেলিয়া। তবে পাকিস্তানি বোলারদের নিয়ন্ত্রিত ও বিধ্বংসী বোলিংয়ের সামনে শুরু থেকেই নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে তারা। মাত্র ৪২ ওভারে ১৫৭ রানেই গুটিয়ে যায় অজিদের ইনিংস। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৬৫ রানের একটি প্রতিরোধমূলক ইনিংস খেলেন অধিনায়ক জোশ ইংলিশ। ১টি ছক্কা ও ৮টি চারের সাহায্যে ৭১ বলে এই রান করেন তিনি। এ ছাড়া মার্নাস লাবুশেন ও অ্যালেক্স ক্যারি দুজনেই সমান ১৯ রান করে অবদান রাখেন।
অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস ধসিয়ে দেওয়ার মূল কারিগর ছিলেন পাকিস্তানের বোলাররা। পেস বোলিংয়ের নেতৃত্বে থাকা শাহীন শাহ আফ্রিদি ৮ ওভারে মাত্র ৩০ রান খরচ করে শিকার করেন ৩টি উইকেট। তাকে যোগ্য সঙ্গ দিয়ে স্পিন বোলার আবরার আহমেদ ১০ ওভারে মাত্র ১.৯ গড়ে ১৯ রান দিয়ে তুলে নেন ২টি উইকেট। আরেক অভিজ্ঞ স্পিনার শাদাব খানও ৯ ওভারে ২৮ রান দিয়ে ২টি উইকেট লাভ করেন। এ ছাড়া হারিস রউফ ৩৩ রান দিয়ে ১টি উইকেট নেন।
১৫৮ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তানও অবশ্য বেশ কিছু উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়েছিল। তবে সাবেক অধিনায়ক বাবর আজমের দায়িত্বশীল ব্যাটিং দলের জয়ের ভিত্তি গড়ে দেয়। তিনি ৮৪ বলে ৩টি চারের সাহায্যে সর্বোচ্চ ৪০ রানের একটি ধীরস্থির ও কার্যকর ইনিংস খেলেন। ওপেনিংয়ে নামা মাআজ সাদাকাত ২৬ বলে করেন ২৭ রান। শেষ দিকে অলরাউন্ডার শাদাব খান ৪২ বলে ২৯ রান এবং আব্দুল সামাদ ৩০ বলে ১৮ রান করে অপরাজিত থেকে ৪১.৫ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন দলকে।
অস্ট্রেলিয়ার বোলাররা অল্প পুঁজি নিয়েও ম্যাচটি জমিয়ে তোলার আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন। অজি বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন ম্যাথিউ কুহনেম্যান, যিনি ১০ ওভারে ৩৮ রান দিয়ে ৩টি উইকেট শিকার করে পাকিস্তানের মিডল অর্ডারে কম্পন ধরিয়েছিলেন। এ ছাড়া নাথান এলিস ও ম্যাথিউ শর্ট যথাক্রমে ১টি করে উইকেট নেন এবং পার্ট-টাইম বোলার ম্যাট রেনশ ৩ ওভারে মাত্র ৬ রান দিয়ে ১টি উইকেট তুলে নেন। তবে শেষ পর্যন্ত শাদাব ও সামাদের অবিচ্ছিন্ন জুটির কল্যাণে পাকিস্তান ৪ উইকেটের জয় নিশ্চিত করে সিরিজ নিজেদের করে নেয়।
