শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
Logo
×

আবারও জাতিসংঘের কালো তালিকায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনী

প্রথম সমাচার ডেস্ক ১৮ জুন ২০২৬, ১০:৫৯ পূর্বাহ্ন

সশস্ত্র সংঘাতে শিশুদের বিরুদ্ধে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে টানা তৃতীয়বারের মতো জাতিসংঘের কালো তালিকায় স্থান পেয়েছে ইসরায়েলের সেনাবাহিনী ও নিরাপত্তা বাহিনী। ২০২৫ সালের তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে প্রস্তুত জাতিসংঘের একটি খসড়া প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা আনাদোলু।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে সশস্ত্র সংঘাতে শিশুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত গুরুতর অপরাধের সংখ্যা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে। বছরজুড়ে ২৪ হাজার ১৭৪ জন শিশুর বিরুদ্ধে সংঘটিত ৩৮ হাজার ৫৫৮টি গুরুতর লঙ্ঘনের ঘটনা জাতিসংঘ যাচাই করেছে। ভুক্তভোগীদের মধ্যে ১৫ হাজার ৪৯৩ জন ছেলে, ৭ হাজার ৯৯০ জন মেয়ে এবং ৬৯১ জনের লিঙ্গ পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

জাতিসংঘের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, সংস্থাটির ৩০ বছরের ইতিহাসে এবারই প্রথম কোনো রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে শিশুদের বিরুদ্ধে গুরুতর লঙ্ঘনের প্রধান অপরাধীদের তালিকায় শীর্ষে রাখা হয়েছে। এই তালিকায় প্রথম অবস্থানে রয়েছে ইসরায়েল এবং দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে রাশিয়া।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, আগের বছরের তুলনায় শিশু নিহতের সংখ্যা ৩৪ শতাংশ এবং আহতের সংখ্যা ১০ শতাংশ বেড়েছে। শিশুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত লঙ্ঘনের ঘটনায় সবচেয়ে বেশি অভিযোগ উঠেছে ফিলিস্তিনে ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে, যেখানে ১২ হাজার ৪৪৫টি লঙ্ঘনের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এরপর রয়েছে কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র, নাইজেরিয়া, মিয়ানমার ও সোমালিয়া।

জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে ৬ হাজার ২৬৬ জন শিশু নিহত এবং ৭ হাজার ৯৫৮ জন আহত হয়েছে। এছাড়া ৬ হাজার ৬০৭ জন শিশুকে সশস্ত্র গোষ্ঠীতে নিয়োগ, ৮ হাজার ৩২২ জনকে মানবিক সহায়তা থেকে বঞ্চিত এবং ৪ হাজার ৫৭৩ জনকে অপহরণের ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে।

অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে শিশুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত সহিংসতার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। প্রতিবেদনে তিনি বলেন, গাজায় চলমান গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় তিনি মর্মাহত এবং পূর্ব জেরুজালেমসহ পশ্চিম তীরে চলমান সহিংসতা নিয়েও গভীর উদ্বিগ্ন।

তিনি ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানে শিশু হতাহতের ঘটনার সমালোচনা করে বলেন, এসব ঘটনার যথাযথ বিচার নিশ্চিত না হওয়ায় দায়মুক্তির সংস্কৃতি আরও শক্তিশালী হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও শিশু সুরক্ষায় সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।

শেয়ার করুন:
লিঙ্ক কপি হয়েছে
Loading
আরও নিউজ লোড হচ্ছে...