রাজধানীর পল্লবীতে নিজের শিশুকন্যা রামিসা আক্তারকে নৃশংসভাবে হত্যার পর বাবা আবদুল হান্নান মোল্লা গণমাধ্যমের সামনে দাঁড়িয়ে বললেন এক হৃদয়বিদারক কথা — বিচার চান না তিনি। কারণ, এই দেশে বিচার হয় না।
তার ভাষায়, মেয়ে আর ফিরবে না। আর বিচারের কোনো নজিরও নেই। বড়জোর পনেরো দিন আলোচনা হবে, তারপর নতুন কোনো ঘটনায় এটা চাপা পড়ে যাবে।
গত মঙ্গলবার সকালে রামিসাকে স্কুলের জন্য খুঁজতে বেরিয়ে তার মা পাশের ফ্ল্যাটের দরজার সামনে মেয়ের স্যান্ডেল দেখতে পান। দরজায় বারবার নক করলেও ভেতর থেকে সাড়া মেলেনি। কারণ, ঠিক সেই মুহূর্তেই ভেতরে চলছিল হত্যাকাণ্ড। মূল অভিযুক্ত প্রতিবেশী সোহেল রানা যেন পালাতে পারেন, সেজন্য তার স্ত্রী স্বপ্না দীর্ঘক্ষণ দরজা আটকে রাখেন।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, এই দম্পতি মাত্র দুই মাস আগে ওই বাড়িতে ভাড়া এসেছিলেন। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, সোহেল রানার বিকৃত যৌনলালসার শিকার হয়েছিল শিশুটি। ঘটনা ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরে প্রমাণ লোপাট করতে শিশুটির মাথা ও হাত কেটে ফেলা হয়।
উভয় অভিযুক্তকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধর্ষণের বিষয়টি ময়নাতদন্ত ও রাসায়নিক পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়ার পর চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
