যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও ত্যাগের মহিমায় বিশ্বজুড়ে উদযাপিত হচ্ছে মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা। বুধবার ঈদের প্রথম দিনে ফিলিস্তিনের অধিকৃত জেরুজালেমের ঐতিহাসিক আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে ঢল নেমেছিল হাজার হাজার মুসল্লীর। ইসলামের অন্যতম পবিত্র এই স্থানটির চত্বর ও চারপাশের আঙিনা ঈদের নামাজ আদায়কারী মুসল্লিদের উপস্থিতিতে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় মুসলিম উম্মাহর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে সেখানে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
মুসলিম পঞ্জিকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই উৎসবটি মূলত মহান আল্লাহর আদেশে হযরত ইব্রাহিম (আঃ) কর্তৃক তাঁর প্রিয় পুত্রকে কোরবানি দেওয়ার চরম আত্মত্যাগ ও আনুগত্যের স্মৃতি বহন করে। এই ঐতিহাসিক ত্যাগকে স্মরণ করেই বিশ্বজুড়ে মুসলমানরা পশু কোরবানি দিয়ে থাকেন এবং সেই কোরবানির পশুর মাংসের একটি বড় অংশ সমাজের দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মাঝে বিতরণ করা হয়। তবে চার দিনব্যাপী এবারের এই ঈদের আনন্দ ফিলিস্তিনিদের জন্য উদ্বেগজনক বাস্তবতার মধ্য দিয়ে কাটছে।
গত বছরের অক্টোবর মাসে ঘোষিত একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও ইসরায়েলি বাহিনীর ক্রমাগত চুক্তি লঙ্ঘনের ঘটনার মাঝেই এবার ঈদ উদযাপন করছেন ফিলিস্তিনের মানুষ। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় ৮৮০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ২ হাজার ৬৪৫ জনেরও বেশি মানুষ।
