ঝিনাইদহর কালীগঞ্জে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের এক নেতার মেয়ের সঙ্গে ছাত্রদল নেতার বিয়ের অনুষ্ঠান ঘিরে এলাকায় আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা আবু তালিব।
বৃহস্পতিবার উপজেলার বগেরগাছি গ্রামে অনুষ্ঠিত ওই বিয়েতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতাকর্মীদের উপস্থিতিও নজর কাড়ে।
জানা গেছে, রাখালগাছি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মহিদুল ইসলাম মন্টুর মেয়ে মেহেজাবিন ইসলাম তুলির সঙ্গে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মারুফ বিল্লাহর বিয়ের আয়োজন করা হয়। এতে অতিথি হিসেবে যোগ দেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মাওলানা আবু তালিব।
অনুষ্ঠানে বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীদের একসঙ্গে দেখা যায়। এ সময় সংসদ সদস্য আবু তালিবকে আওয়ামী লীগ নেতা মহিদুল ইসলাম মন্টু নিজ হাতে খাবার পরিবেশন করছেন—এমন ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
এদিকে, মহিদুল ইসলাম মন্টুর বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলাও রয়েছে বলে মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ২৪ মার্চ কালীগঞ্জ মাহতাব উদ্দিন কলেজ এলাকার সামনে থেকে শিবিরকর্মী শামীমকে তুলে নেওয়া হয়। পরে একই বছরের ১৩ এপ্রিল যশোর সদরের লাউখালী এলাকার একটি শ্মশানঘাট থেকে তার গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এই ঘটনায় ২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর নিহত শামীমের বাবা আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলায় মহিদুল ইসলাম মন্টুসহ ১২ জনের নাম উল্লেখ করে আরও অজ্ঞাত ১৫ জনকে আসামি করা হয়।
বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার বিষয়ে সংসদ সদস্য মাওলানা আবু তালিব বলেন, রাখালগাছি ইউনিয়নে তার গ্রামের বাড়ি হওয়ায় সামাজিক সম্পর্কের কারণেই তিনি অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন। পাশাপাশি তিনি বলেন, মামলার ভুক্তভোগী পরিবার যেন ন্যায়বিচার পায়, সে বিষয়েও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
