ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের অবসানে এখনো কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে শেষ পর্যন্ত তেহরানকে আলোচনার টেবিলে আসতেই হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি।
শুক্রবার এনবিসি নিউজের ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানের নেতারা ‘শক্তিশালী’ ও ‘অহংকারী’ হওয়ায় সিদ্ধান্ত নিতে সময় নিচ্ছেন। তবে তাদের সামনে সমঝোতা ছাড়া কার্যকর কোনো বিকল্প নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ট্রাম্পের ভাষায়, “তারা শক্তিশালী, তারা অহংকারী। এমন কিছু সিদ্ধান্ত তাদের নিতে হবে, যা তারা আগে কখনো কল্পনাও করেনি। এতে কিছুটা সময় লাগলেও শেষ পর্যন্ত তারা সমঝোতার পথেই আসবে।”
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত দীর্ঘ সময় ধরে চললেও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুদ্ধবিরতি ও কূটনৈতিক আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যদিও কয়েক দফা আলোচনা হলেও এখনো স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি এবং নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে।
এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের পরিচালিত ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ সামরিক অভিযান শেষ হয়েছে। তার দাবি, হরমুজ প্রণালীর কাছে জাহাজ লক্ষ্য করে ইরানের হামলার জবাবে আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থা হিসেবেই এই অভিযান পরিচালিত হয়।
রুবিও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীকে রক্ষার স্বার্থে শুধু ড্রোন নয়, ড্রোন উৎক্ষেপণকারী অবস্থানগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও দাবি করেন, যুদ্ধ শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রবাহিনীর হামলায় ইরানের ড্রোন কারখানা, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং উৎপাদন স্থাপনার বড় অংশ ধ্বংস হয়েছে। তবে তিনি স্বীকার করেন, ইরানের হাতে এখনো কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন রয়েছে, যদিও সেগুলোর সংখ্যা আগের তুলনায় অনেক কম।
তিনি বলেন, “তাদের কিছু সক্ষমতা এখনো আছে, তবে তা আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।”
সংঘাতের প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতেও পড়েছে। হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এবং তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপও বেড়েছে।
অন্যদিকে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সমঝোতা ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র বিকল্প পথও বিবেচনা করতে পারে। তবে সেই পথ যে সুখকর হবে না, সে কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে আগামী কয়েক সপ্তাহের কূটনৈতিক অগ্রগতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সূত্র: এনবিসি নিউজ
