রোববার, ২৪ মে ২০২৬
Logo
×

ঈশান কিশানের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে চেন্নাইকে হারালো হায়দরাবাদ

প্রথম সমাচার ডেস্ক ১৯ মে ২০২৬, ১২:০৮ অপরাহ্ন

আইপিএল ২০২৬-এর ৬৩তম ম্যাচে চেন্নাই সুপার কিংসকে (সিএসকে) ৫ উইকেটের বড় ব্যবধানে পরাজিত করেছে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ (এসআরএইচ)। গতরাতে এম এ চিদাম্বরম স্টেডিয়ামে (চিপক) অনুষ্ঠিত এই রোমাঞ্চকর ম্যাচে টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৮০ রান সংগ্রহ করে চেন্নাই। জবাবে ১৯ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৮১ রান তুলে অনায়াস জয় তুলে নেয় হায়দরাবাদ। এই জয়ের মাধ্যমে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ এবারের আসরের প্লে-অফ নিশ্চিত করেছে। ম্যাচে ৪৭ বলে ৭০ রানের এক চোখ ধাঁধানো ম্যাচজয়ী ইনিংস খেলে ম্যাচসেরা (প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ) নির্বাচিত হন হায়দরাবাদের উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান ঈশান কিশান।

চিপকের উইকেটে ম্যাচের শুরুতে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন সানরাইজার্স হায়দরাবাদের অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। তার এই সিদ্ধান্তকে সঠিক প্রমাণ করতে খুব বেশি সময় নেননি হায়দরাবাদের বোলাররা। চেন্নাইয়ের চেনা মাঠে শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে স্বাগতিক ব্যাটসম্যানদের চেপে ধরে তারা। বিশেষ করে ডেথ ওভারে কামিন্সের বিধ্বংসী বোলিংয়ের সামনে দাঁড়াতে পারেনি চেন্নাইয়ের লোয়ার-অর্ডার। তবে এর মাঝেই সিএসকে-এর হয়ে উইকেটরক্ষক সঞ্জু স্যামসন এবং প্রোটিয়া তারকা ডেওয়াল্ড ব্রেভিস মিডল ওভারে দুর্দান্ত ব্যাটিং করে দলের বিপর্যয় সামাল দেন। তাদের লড়াকু ব্যাটিংয়ের ওপর ভর করেই চেন্নাই শেষ পর্যন্ত লড়াই করার মতো একটি পুজি পায়।

চেন্নাই সুপার কিংসের ব্যাটিং ইনিংসের মূল বাধা হয়ে দাঁড়ান খোদ হায়দরাবাদ অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। তিনি ৪ ওভারের কোটায় দারুণ বোলিং করে গুরুত্বপূর্ণ ৩টি উইকেট শিকার করেন, যা চেন্নাইকে বড় স্কোর গড়া থেকে বিরত রাখে। এই ৩ উইকেট শিকারের মাধ্যমে কামিন্স তার টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের ২০০তম উইকেটের মাইলফলকও স্পর্শ করেন। সানরাইজার্সের ইশান মালিঙ্গা এবং প্রফুল হিঙ্গেও বল হাতে তাদের উপযুক্ত সঙ্গ দেন। বোলারদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় চেন্নাইকে ১৮০ রানে আটকে রেখে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতেই রাখে হায়দরাবাদ।

১৮১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের শুরুটা কিছুটা মন্থর হলেও দলের হাল ধরেন ওপেনার অভিষেক শর্মা এবং ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার হিসেবে নামা ট্র্যাভিস হেড। তবে হেড মাত্র ৬ রান করে মুকেশ চৌধুরীর শিকার হয়ে দ্রুত বিদায় নেন। এরপর দলের হাল ধরেন ঈশান কিশান এবং অভিষেক শর্মা। অভিষেক ২১ বলে ২৬ রান করে আকিল হোসেনের বলে আউট হলেও, উইকেটের অন্য প্রান্ত আগলে রেখে তাণ্ডব চালান ঈশান কিশান। তিনি ৭টি চার এবং ৩টি ছক্কার সাহায্যে ৪৭ বলে ৭০ রানের একটি অনবদ্য ইনিংস খেলেন। ঈশানের এই বিধ্বংসী ইনিংসটিই মূলত হায়দরাবাদকে জয়ের বন্দরে পৌঁছানোর পথ সুগম করে দেয়।

ঈশান কিশানের বিদায়ের পর মিডল ওভারে ম্যাচের বাকি কাজটুকু সারেন হেনরিখ ক্লাসেন। তিনি মাত্র ২৬ বলে ৬টি চার এবং ২টি ছক্কার সাহায্যে ১৮০.৭৭ স্ট্রাইক রেটে ৪৭ রানের একটি ঝড়ো ইনিংস খেলেন, যা চেন্নাইয়ের বোলারদের ম্যাচ থেকে পুরোপুরি ছিটকে দেয়। শেষের দিকে নীতিশ কুমার রেড্ডি ১১ এবং সলিল আরোরা ১০ রান করে অপরাজিত থেকে এক ওভার বাকি থাকতেই দলের জয় নিশ্চিত করেন। চেন্নাইয়ের পক্ষে ইমপ্যাক্ট বোলার মুকেশ চৌধুরী ৩৬ রান দিয়ে ২টি এবং আনশুল কম্বোজ ও নূর আহমদ ১টি করে উইকেট নিলেও তা হায়দরাবাদের এই মহাগর্জন থামানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না।

শেয়ার করুন:
লিঙ্ক কপি হয়েছে
Loading
আরও নিউজ লোড হচ্ছে...