ভারতের তরুণদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক আন্দোলন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) এবার রাজধানী নয়াদিল্লিতে প্রথম বড় সমাবেশ করেছে। আন্দোলনকারীরা দেশটির শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করে শিক্ষা ব্যবস্থার অনিয়ম ও প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে অংশ নেন।
শনিবার রাজধানীর জন্তর মন্তরে আয়োজিত এই সমাবেশে শত শত তরুণ-তরুণী অংশ নেন। আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী ৩০ বছর বয়সী অভিজিৎ দিপকে, যিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ককরোচ আন্দোলন’-এর সূচনা করেন।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতে জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস, মূল্যায়নে অসঙ্গতি এবং শিক্ষা ব্যবস্থার নানা অনিয়ম নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়তে থাকে। বিশেষ করে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা ও বোর্ড পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে বিতর্ক নতুন করে অসন্তোষ সৃষ্টি করে।
এ প্রেক্ষাপটে সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামে এই আন্দোলনের জন্ম হয়। আন্দোলনের নেতাদের দাবি, এটি আর কেবল অনলাইন ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ নয়; বরং শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে তরুণদের একটি সংগঠিত প্ল্যাটফর্ম।
সমাবেশে বক্তব্য দিয়ে অভিজিৎ দিপকে বলেন, “শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।” বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রতি বছরই প্রশ্নফাঁস ও পরীক্ষা-সংক্রান্ত অনিয়মের ঘটনা ঘটলেও দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। তারা শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
সমাবেশে অংশ নিতে বিভিন্ন রাজ্য থেকে শিক্ষার্থীরা রাজধানীতে আসেন। তাদের একজন বলেন, সামাজিক মাধ্যমে শুরু হওয়া এই উদ্যোগ এখন বাস্তব আন্দোলনে রূপ নিয়েছে এবং তরুণদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
এদিকে আন্দোলনের নেতারা অভিযোগ করেন, সরকারবিরোধী মত প্রকাশের ক্ষেত্রে দেশে ভয় ও সংকোচের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তবে ভারতের সরকার ও ক্ষমতাসীন বিজেপি এ ধরনের অভিযোগ বরাবরের মতোই অস্বীকার করেছে।
তীব্র গরম উপেক্ষা করেও বিক্ষোভে অংশ নেওয়া অনেক তরুণ প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে তেলাপোকার মুখোশ, ফুল ও বই হাতে উপস্থিত হন। তাদের ভাষ্য, শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার এবং শিক্ষার্থীদের অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতেই এই কর্মসূচি।
সূত্র: আল জাজিরা
