এই পবিত্র স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলোর অন্যতম হলো কাবা শরিফের দরজার পাশে শাধারাওয়ানের (কাবা শরিফের নিচের অংশ ঘিরে থাকা এক ধরনের উঁচু, ঢালু মার্বেল বর্ডার বা ঘের) উপর অবস্থিত সেই স্মৃতিময় মার্বেলখণ্ডগুলো, যেগুলোকে বলা হয় ‘মুসাল্লা জিবরাইল’ বা জিবরাইলের নামাজের স্থান। এগুলো নিছক পাথর নয়; এগুলো এমন এক ঐতিহাসিক মঞ্চ, যেখানে মহান আল্লাহর প্রেরিত আসমানি শিক্ষক পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ নবীকে শিখিয়েছিলেন ইসলামের দ্বিতীয় স্তম্ভ নামাজের বাস্তব রূপ।
মিরাজের সেই অলৌকিক সফর শেষে, যখন নবীজি (সা.) ফিরে এলেন, তখন এই স্থানেই ফেরেশতা জিবরাইল (আ.) তাঁকে হাতে-কলমে শেখালেন নামাজের সময় ও পদ্ধতি, যে নামাজ কিয়ামত পর্যন্ত দুনিয়াতে আসা সব মুসলমানের জীবনের কেন্দ্রবিন্দু, আত্মার প্রশান্তি, মহান আল্লাহর সঙ্গে সংযোগের সেতু।
হাদিস শরীফে সে মহিমান্বিত দিনের কথা উল্লেখ রয়েছে। ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, বাইতুল্লাহর নিকট জিবরাইল (আ.) দুবার আমার নামাজে ইমামতি করেছেন।
পরদিন তিনি আমাকে নিয়ে জোহরের নামাজ আদায় করলেন, যখন (প্রত্যেক বস্তুর) ছায়া তার সমান হয় এবং আসর নামাজ আদায় করলেন, যখন (প্রত্যেক বস্তুর) ছায়া তার দ্বিগুণ হয়। মাগরিব নামাজ আদায় করলেন, যখন রোজা পালনকারীর ইফতারের সময় হয় এবং এশার নামাজ আদায় করলেন রাতের তৃতীয়াংশ পর্যন্ত এবং ফজর নামাজ আদায় করলেন, তখন চারিপাশ আলোকিত হয়ে গিয়েছিল।
অতঃপর জিবরাইল (আ.) আমার দিকে ফিরে বললেন, হে মুহাম্মদ (সা.)! এটাই হচ্ছে আপনার পূর্ববর্তী নবীদের নামাজের ওয়াক্ত এবং ওয়াক্তসমূহ এ দু সময়ের মাঝেই নিহিত। (আবু দাউদ, হাদিস : ৩৯৩)
এই হাদিস কেবল সময়ের সীমারেখা নির্ধারণ করে না; বরং এটি প্রমাণ করে, নামাজ কোনো সাধারণ ইবাদত নয়ম বরং এটি আসমান থেকে সরাসরি শেখানো এক মহামূল্যবান উপহার।
যেই উপহারের চিহ্ন বহন করে আছে, মুসাল্লা জিবরাইল বা জিবরাইলের নামাজের স্থান। সম্ভবত কাবা শরীফের এই অংশ বরাবর দাঁড়িয়ে জিবরাইল (আ.) মহানবী (সা.)-কে নামাজের প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। বর্তমানে জায়গাটি চিহ্নিত আছে, আটটি বিশেষ মার্বেলখণ্ড দিয়ে। এই মার্বেল ‘মেরি স্টোন’ নামে পরিচিত পৃথিবীর বিরলতম পাথরগুলোর একটি। খলিফা আবু জাফর আল-মানসুর এগুলো উপহার হিসেবে প্রদান করেছিলেন। প্রতিটি টুকরোর আকার ভিন্ন; সবচেয়ে বড়টির দৈর্ঘ্য প্রায় ৩৩ সেন্টিমিটার এবং প্রস্থ ২১ সেন্টিমিটার।
